বাংলাদেশ চীন

চীনে বন্ধ রয়েছে এলসি খোলা

করোনা ভাইরাস চীনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে অধিকাংশ ব্যাংক ও অফিস বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যে। চীন থেকে আমদানি করা কাঁচামাল সময় মতো পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে আমদানিকারক ও রাপ্তানিকারকরা। নতুন করে দেশটিতে কোন এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে চায়না-বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাবের সভাপতি ও চীনের পণ্য আমদানিকারক আবদুল মোমেন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে চীনে এখন অধিকাংশ অফিস ও ব্যাংক বন্ধ। ফলে আমরা চেষ্টা করেও চীনে কোন এলসি খুলতে পারছি না। এই সপ্তাহে আমার পাঁচটি এলসি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ব্যাংক খুলতে পারেনি। রফতানিও বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি জানান, এখন এমন পরিস্থিতি যে অন্য কোন দেশেও এলসি খোলা যাচ্ছে না। কারণ বিকল্প কোন দেশই পাওয়া যাচ্ছে না। চীন বাদ দিয়ে ভারতের দিকে গেলে তারাও চীনের ওপর নির্ভরশীল। তাইওয়ান, হংকং, সিঙ্গাপুরে পণ্যের জন্য অর্ডার দিলেও কাজ হচ্ছে না। কারণ তারাও চীনের ওপর নির্ভরশীল।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চীন থেকে সবচেয়ে বেশি কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, তৈরি পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চীন থেকে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে যা মোট আমদানির ২৬ শতাংশেরও বেশি।

আবদুল মোমেন বলেন, চীন সরকার করোনা ভাইরাসের কারণে ছুটির সময় বাড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ৫ তারিখে ব্যাংক ও অফিস খোলার কথা ছিল, কিন্তু ছুটি বাড়ানো হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে করোনা ভাইরাস নিয়ে বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাট সুতাসহ বিভিন্ন পণ্যের রফানিকারকেরা। বিশেষ করে যারা ওভেন পোশাক রফতানি করেন। কারণ, ওভেন পোশাকের ৬০-৬৫ শতাংশ কাপড় আমদানি হয়, যার একটি বড় অংশ আসে চীন থেকে।

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর