পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের নির্দেশ
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের নির্দেশ
বাংলাদেশর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ( ইউজিসি ) । বুধবার এক বিবৃতিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয় ।
সান্ধ্য কোর্সের মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের এমন মন্তব্যের পর এই নির্দেশনা দেওয়া হলো।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সান্ধ্য কোর্স পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে বিধায় এই ধরনের কোর্সগুলো বন্ধ হওয়া দরকার। সেই সঙ্গে ইউজিসির অনুমোদন না নিয়েই দেশের কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ, প্রোগ্রাম ও ইনস্টিউট খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে যা বাঞ্ছনীয় নয়।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম স্বাক্ষিরিত নির্দেশনা সম্বলিত একটি চিঠি বুধবার দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ ও পদ সৃষ্টিতে ইউজিসির পূর্বানুমোদন, পদন্নোতি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসরণসহ মোট ১৩ দফা নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেছে ইউজিসি।
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫২তম সমাবর্তনে আচার্য আব্দুল হামিদ বলেন, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ডিপার্টমেন্ট কোর্স, ইভনিং কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স ও ইনস্টিটিউটের ছড়াছড়ি। বাণিজ্যিক কোর্সের মাধ্যমে প্রতিবছর হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে। এসব ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষার্থীরা কতটুকু লাভবান হচ্ছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন থাকলেও এক শ্রেণির শিক্ষক কিন্তু ঠিকই লাভবান হচ্ছেন। তারা নিয়মিত নগদ সুবিধা পাচ্ছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছেন।
বিবৃতিতে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়, দেশের কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই নতুন বিভাগ, প্রোগ্রাম ও ইনস্টিটিউট খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হচ্ছে।
সান্ধ্য কোর্স বন্ধের নির্দেশনা ছাড়াও আরো কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করা হয় ইউজিসির নির্দেশনায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন অনুষদ, বিভাগ, প্রোগ্রাম বা ইনস্টিটিউট খোলার বিষয়ে কমিশনের অনুমোদন নেয়ারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও বলা হয়, অনুমোদন ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পদ সৃষ্টি বা বাতিল করা যাবে না এবং সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুযায়ী আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি, র্যাগিং, সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি, নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু, পরীক্ষা অনুষ্ঠান ও ফলাফল প্রকাশের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।
ছবিঃ সংগ্রহ

