হজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর
হজরে আসওয়াদ বা কালো পাথর
পৃথিবীর প্রাচীনতম পবিত্র ঘর কাবা শরীফে স্থাপিত আছে যে কালো পাথরটি, আরবিতে যাকে বলা হয় হজরে আসওয়াদ।এটি বেহেস্তের মর্যাদাপূর্ণ একটি পাথর। হাজীরা সরাসরি বা ইশারায় এতে চুম্বন দিয়ে থাকে। কাবা ঘরের দক্ষিণ- পূর্ব কোণে , মাটি থেকে ১.১ মিটার উচ্চতায় এটি স্থাপিত। চারপাশে আছে রুপার বেষ্টনী।
হজরে আসওয়াদ পূর্বে একখণ্ড ছিল। কারামাতা সম্প্রদায় ৩১৯ হিজরিতে পাথরটি নিজেদের আঞ্চলে নিয়ে যায়। ওই সময় পাথরটি ভেঙে আট টুকরো হয়ে যায়। এই টুকরোগুলো অন্য আরেকটি পাথরে প্রতিস্থাপন করে দেওয়া হয়েছে রুপার বেষ্টনী। হজরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেন, “ হজরে আসওয়াদ জান্নাত থেকে নেমে এসেছে। এর রঙ দুধের চেয়ে সাদা ছিল। অন্য বর্ণনায় বরফের চেয়েও সাদা ছিল। পরে আদম সন্তানের পাপ তাকে কালো করে দেয়।“ – তিরমিজি
কাবা পুননির্মাণের সময় হজরে আসওয়াদ বসানো নিয়ে কুরাইশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেধেছিল। তখন মহানবী (সঃ) নিজের গায়ের চাদর খুলে তাতে এ পবিত্র পাথর রেখে সব গোত্রপ্রধানদের চাদর ধরতে বলেন। গোত্রপ্রধানরা তা কাবা চত্বর পর্যন্ত নিয়ে গেলে নবীকরীম (সাঃ) নিজ হাতে তা কাবার দেয়ালে স্থাপন করে দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তি ঘটান ।
হাদিসে আছে,” রুকন( হজরে আসওয়াদ) ও মাকামে ইব্রাহিম– জান্নাতের ইয়াকুত পাথরগুলোর মধ্যে দুটি পাথর। আল্লাহ এগুলোকে আলোকহীন করে দিয়েছেন। যদি তিনি এগুলোকে আলোকহীন না করে দিতেন, তবে তা পূর্ব- পশ্চিমকে আলোকিত করে দিত।“ – তিরমিজি
হজরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) বলেন , “ কেয়ামতের দিন আল্লাহ এ পবিত্র পাথরকে পুনরুত্থান করবেন। তার দুটি চোখ আর একটি জিহ্বা থাকবে। তখন এ পাথর ওই ব্যক্তির জন্য সাক্ষ্য প্রদান করবে, যে তাকে সততার সহিত স্পর্শ করেছিল ।“ – আহমদ
tor-e-tokka.com# h/@.
ছবিঃ সংগ্রহ

