হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ১২৮ তম জন্মবার্ষিকী আজ
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ১২৮ তম জন্মবার্ষিকী আজ
উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ১২৮ তম জন্মবার্ষিকী আজ । পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৮৯২ সনের ৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এ কালজয়ী নেতা ।
বিচারপতি স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দির কনিষ্ঠ সন্তান ছিলেন তিনি । মা খুজাস্তা আখতার বানু ছিলেন নামকরা উর্দু সাহিত্যিক ।
এই প্রতিভাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাংবিধানিক শাসনে বিশ্বাসী ছিলেন । তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হচ্ছে ১৯২৪ সালে তিনি কলকাতা পৌরসভার ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন , ১৯৩৭ সালে ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রীসভার শ্রম ও বাণিজ্যমন্ত্রী , ১৯৪৩ – ৪৫ পর্যন্ত খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রীসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী ছিলেন , ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী , পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪ সালে আইনমন্ত্রী , ১৯৫৬ সাল পরবর্তী ১৩ মাস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ।
পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি । ১৯৪৭ সালে পাক – ভারত স্বাধীনতার পর খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে মুসলিম লীগ সরকারের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেন ।
১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগকে ১৯৩৭ সালে বাংলায় সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং এর অগ্রযাত্রায় সোহরাওয়ার্দীর ভূমিকা ছিল অসামান্য। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ (পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরে গণতন্ত্রকামী বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র সাত বছরের মধ্যে পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালে আইয়ুববিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । ১৯৫৩ সালে তিনি একে ফজলুল হক ও মাওলানা ভাসানীর সাথে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন । ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয়ে তাঁর অবদান ছিল অবিস্মরণীয় । ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নে তাঁর অবদান তাৎপর্যপূর্ণ । ১৯৬২ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে তিনি মুখ্য ভূমিকা রাখেন ।
স্বাস্থ্যগত কারনে তিনি দেশের বাইরে যান ১৯৬৩ সালে । লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থানকালে ডিসেম্বরে রহস্যজনক ভাবে তিনি মৃত্যুবরণ করেন । ঢাকায় হাইকোর্টের পাশে তিন নেতার মাজারে রয়েছে তাঁর সমাধি ।
ছবিঃ সংগ্রহ

