সাঁওতাল বিদ্রোহ

আজ ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস

ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস আজ । সাঁওতাল বিদ্রোহ বা সান্তাল হুল এর সূচনা হয় ১৮৫৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও বিহারের ভাগলপুর জেলায় । মুক্তিকামী মানুষের কাছে যা আজও প্রেরণার অন্যতম উৎস । সাঁওতাল বিদ্রোহ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শুধু প্রথম সংগ্রামই নয় ; কৃষক সম্প্রদায়ের দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে , বেঁচে থাকার অধিকার আদায়ের দাবীতে কৃষক সমাজের প্রথম গণসংগ্রাম হিসেবেও চিহ্নিত ।

ইংরেজ শাসনামলে স্থানীয় জমিদার , মহাজন ও ইংরেজদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সাঁওতালরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে । তাদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় সিধু মাঝি , কানু মাঝি , চাঁদ , ভৈরব ,  প্রমুখ । এটি ছিল তাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম । নিপীড়ন ও নির্যাতনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম সাঁওতাল রাজ্য প্রতিষ্ঠা করাই ছিল এ বিদ্রোহের অন্যতম উদ্দেশ্য ।  অধিকার আদায়ের এ আন্দোলনে সেদিন স্বতঃস্ফূর্তভাবে আংশ নিয়েছিল সাঁওতাল নরীরাও । সাঁওতালদের এই বিদ্রোহই ভারতবর্ষে স্বাধীনতার বীজ বপন করে গিয়েছিল । ১৭৯৩ সনে লর্ড কর্নওয়ালিশের প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে সাঁওতালদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল ।    

১৮৫৫ সালের ৩০ জুন যুদ্ধ শুরু হয় এবং তা শেষ হয় ১৮৫৬ সালের নভেম্বরে । ৭ জুলাই দিঘি থানার মহেশলাল দারোগাসহ ১৯ জনকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে । সাঁওতালরা তীর-ধনুক ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ইংরেজ বাহিনীর মোকাবেলা করেছিল । যুদ্ধে সিধু-কানু-চাঁদ-ভৈরব পর্যায়ক্রমে নিহত হলে ১৮৫৬ সনের নভেম্বর মাসে বিদ্রোহের পরিসমাপ্তি ঘটে ।  

১৮৫৫ সনের ৩০ জুন প্রায় ত্রিশ হাজার সাঁওতাল কৃষকের বীরভূমের ভগনাডিহি থেকে সমতলভূমি দিয়ে কোলকাতা অভিমুখে পদযাত্রা ভারতবর্ষের ইতিহাসে প্রথম গণ পদযাত্রা হিসেবে অভিহিত

আন্দোলনরত সাঁওতাল নেতাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তৎকালীন কমিশনার প্রধান-নেতার জন্য দশ হাজার টাকা , সহকারী প্রত্যেক নেতার জন্য পাঁচ হাজার টাকা , স্থানীয় নেতাদের জন্য এক হাজার টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করেছিলেন

বিদ্রোহ দমনে কোম্পানির বড় কর্তারা ৩৭শ , ৭ম , ৩১শ রেজিমেন্ট , হিল রেঞ্জার্স , ৪৩, ৪২ ও ১৩ রেজিমেন্ট ব্যবহার করেছিল ।

বিদ্রোহের পর পরবর্তীকালে ভাগলপুর ও বীরভূমের কিছু অংশ নিয়ে ৫,৫০০ বর্গমাইল জুড়ে প্রথমে দেওঘর ও পরে ডুমকায় প্রধান কার্যালয় নির্দিষ্ট করে সাঁওতাল পরগণা জেলা গঠিত হয় । বিদ্রোহ প্রশমনের পর প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এটিই  ছিল প্রধান পরিবর্তন । এই পরগণাকে অনিয়ন্ত্রিত ( নন-রেগুলেটেড ) জেলা ঘোষণা করা হয় ।

সাঁওতাল জাতির ইতিহাসে এ বিদ্রোহই সর্বাধিক গৌরবময় । বিদ্রোহের পর সাঁওতালদের জন্য বরাদ্দকৃত জেলা ডুমকা সাঁওতাল পরগণা নামেই পরিচিতি লাভ করে । ১৮৮৫ সালে বেঙ্গল টেনান্সি এ্যাক্ট অনুযায়ী আদিবাসীরা তাদের জমি সরকারী অনুমতি ছাড়া বিক্রি করতে পারতো না । এই আইন এখনও বলবৎ আছে ।

tor-e-tokka.com#h/@

ছবিঃ সংগ্রহ 

আরও খবর