নেলসন ম্যান্ডেলা – বৈষম্য ও বর্ণবাদ বিরোধী কিংবদন্তি নেতা
নেলসন ম্যান্ডেলা – বৈষম্য ও বর্ণবাদ বিরোধী কিংবদন্তি নেতা
গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ম্যান্ডেলা ব্রিটিশ দক্ষিণ আফ্রিকার এমভেজোর এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ফোর্ট হেয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও উইটওয়াটারস্র্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন । জোহানেসবার্গে আইনজীবী হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন । সেখানে তিনি উপনিবেশ বিরোধী কার্যক্রম ও আফ্রিকান জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন । বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে আংশগ্রহণ এবং আরো নানা অপরাধে ম্যান্ডেলা ২৭ বছর কারাবাস ভোগ করেন । ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি কারামুক্ত হন । কারামুক্ত হয়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের সাথে শান্তি আলোচনায় অংশ নেন এবং এর ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসান ঘটে । নেলসন মেন্ডেলাই ছিলেন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম রাষ্ট্রপতি । তিনি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । ম্যান্ডেলা ২৫০টিরও অধিক পুরষ্কারে ভূষিত হন । এর মধ্যে ভারত সরকার প্রদত্ত ভারতরত্ন (১৯৯০ ) ও নোবেল শান্তি পুরষ্কার ( ১৯৯৩ ) অন্যতম । ম্যান্ডেলা তাঁর গোত্রের নিকট ‘মাবিদা ‘ নামে পারিচিত , যার অর্থ ‘ জাতির জনক ‘ । স্কুলের এক শিক্ষক তাঁর ইংরেজি নাম রাখেন নেলসন । কৃষ্ণাঙ্গ এই কিংবদন্তি নেতার জীবনের সার-সংক্ষেপ তুলে ধরা হলো –
১৯১৮ – নেলসন ম্যান্ডেলা ১৮ জুলাই কেপটাউনে জন্মগ্রহণ করেন ।
১৯২৫ – প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন । ম্যান্ডেলা তাঁর পরিবারের প্রথম সদস্য যিনি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন ।
১৯৩০ – তাঁর বাবা যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন । তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর ।
১৯৩৭ – তিনি কলেজে ভর্তি হন ।
১৯৩৯ – ব্যাচেলর অব আর্টস কোর্সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ।
১৯৪০ – বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত হন ম্যান্ডেলা ।
১৯৪২ – ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকা থেকে স্নাতক শেষ করেন ।
১৯৪২ – আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন ।
১৯৪৩ – ফোর্ট হেয়ার থেকে স্নাতক শেষ করেন ।
১৯৪৪ – আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠন করেন ।
১৯৪৮ – আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস ইয়োথ লীগের ন্যাশনাল সেক্রেটারি নির্বাচিত হন ।
১৯৫১ – আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস ইয়োথ লীগের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ।
১৯৫৬ – নেলসন ম্যান্ডেলাসহ আরও ১৫০ জন আন্দোলনকারীকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সরকার ।
১৯৫৮ – ইভ্লিন মেসিকে তালাক ও উইনি মেন্ডেলাকে বিয়ে করেন ।
১৯৬১ – শ্রমিক ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেওয়া ও বেআইনি ভাবে দেশের বাইরে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন ।
১৯৬২ – ১১ জানুয়ারি মিলিটারি ট্রেনিং-এর জন্য দেশত্যাগ করেন । ২৩ জুলাই দেশে প্রত্যাবর্তন । ৫ আগস্ট কাওয়াজুলু নাটালের হাওইক থেকে গ্রেপ্তার । বেআইনিভাবে দেশ ছাড়া ও ১৯৬১ সালে শ্রমিক অসন্তোষ উস্কে দেবার অভিযোগে ৭ নভেম্বর গ্রেপ্তার ।
১৯৬৩ – তাকে রোবেন দ্বীপের কারাগারে প্রেরণ করা হয় ।
১৯৬৪ – যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয় ।
১৯৮২ – পলসমুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয় ।
১৯৮৮ – ভিক্টর ভার্সটার কারাগারে নেওয়া হয় ।
১৯৯০ – ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি কারামুক্ত হন । এই দিনে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দেন ।
১৯৯৩ – তিনি নোবাল শান্তি পুরষ্কারে ভূষিত হন ।
১৯৯৪ – ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ।
১৯৯৫ – নেলসন মেন্ডেলা শিশু তহবিল গঠন করা হয় ।
১৯৯৬ – উইনি মেন্ডেলাকে তালাক দেন ।
১৯৯৮ – গ্রাসা ম্যাসেলকে বিয়ে করেন ।
১৯৯৯ – প্রেসিডেন্ট পদে ইস্তফা দেন ।
২০০১ – প্রস্টেট ক্যানসার আক্রান্ত হন ।
২০০৩ – ম্যান্ডেলা রোডস ফাউন্ডেশন গঠিত হয় ।
২০১৩ – ৫ ডিসেম্বর পরলোক গমন করেন বৈষম্য ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার এই বিশ্বনেতা ।
ম্যান্ডেলার সম্মানে জাতিসংঘ ১৮ জুলাইকে ম্যান্ডেলা ডে বা ম্যান্ডেলা দিবস ঘোষণা করে । প্রতি বছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী ম্যান্ডেলা দিবস পালন করা হয় ।
tor-e-tokka.com# h/@.
ছবিঃ সংগ্রহ , তথ্যঃ উইকিপিডিয়া

