সুপার ব্লাড মুন কি ?
সুপার ব্লাড মুন কি ?
পৃথিবীর চারপাশে ঘোরার সময় কখনো সূর্য , পৃথিবী ও চাঁদ যদি একই সরলরেখায় আসে , সূর্যের আলো পৃথিবীতে বাধা পেয়ে ছায়া সৃষ্টি করে । চাঁদ সেই ছায়ায় ঢাকা পড়লে ঘটে চন্দ্রগ্রহণ । এক্ষেত্রে সূর্যের অবস্থান হয় পৃথিবীর পেছন দিকে । চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার নিচে চলে যায় এবং গাঢ় লাল বর্ণ ধারণ করে ।
পৃথিবীর চারপাশে ঘোরার সময় চাঁদ সর্বদা সমান দূরত্ব রেখে আবর্তিত হয় না । কেননা কক্ষপথ বৃত্তাকার নয় , ডিম্বাকার (ওভাল) । তাই চাঁদ কখনো কখনো পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসে । জ্যোতিবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘ পেরিজি’ । এই অবস্থানে আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ উঠলে তাকেই বলা হয় ‘ সুপার ব্লাড মুন’ । এ সময় পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব থাকে মাত্র আড়াই লক্ষ মাইল । সাধারণত চাঁদ সবসময় পৃথিবীর এত কাছে আসে না । দূরত্ব কমে যাওয়ার ফলে চাঁদ দেখায় বেশি উজ্জ্বল ।

পৃথিবীর বেশি কাছাকাছি থাকায় এসময় চাঁদ স্বাভাবিকের চেয়ে ১৪ শতাংশ বড় ও ৩০ শতাংশ উজ্জ্বল দেখায় । পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে সূর্যরশ্মি বিচ্ছুরিত হওয়ার কারণে নীল আলো শোষিত হয়ে অবশিষ্ট রক্তিম অংশ চাঁদকে লাল রঙে রাঙায় । তাই চাঁদকে দেখায় রক্তিম লাল এবং ‘ সুপার ব্লাড মুন’ কথাটির উৎপত্তি এখান থেকেই ।

জানুয়ারি মাসের পূর্ণিমার চাঁদকে বলা হয় ‘ উল্ফ মুন ‘ । শীতের দেশে জানুয়ারি মাসে উল্ফ বা নেকড়ে’ রা খুব ক্ষুধার্ত থাকে । সেসময় তাদের আকাশের দিকে মুখ তুলে চিৎকার করতে দেখা যায় । সেই থেকে জানুয়ারির পূর্ণিমার চাঁদ ‘ উল্ফ মুন’ নামে পরিচিত । আর চাঁদের রঙ লাল দেখায় বলে বলা হয় ‘ সুপার ব্লাড উল্ফ মুন ‘ ।
tor-e-tokka.com# h/@.
ছবিঃ সংগ্রহ

