লিভার সমস্যা ও তার প্রতিরোধ
লিভার সমস্যা ও তার প্রতিরোধ
মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার । দেহের বিপাকে কাজ করে ও শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে লিভার । একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের লিভারের ওজন প্রায় এক দশমিক পঞ্চাশ কেজি । প্যারেনকাইমাল ও নন – প্যারেনকাইমাল কোষ দিয়ে গঠিত হয় লিভার । অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস , মানসিক চাপ , মদ্যপান , ধূমপান ইত্যাদি কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয় । সারা বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় এক লক্ষ লোক লিভার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় । অযত্ন ও অবহেলায় লিভারে ফোঁড়া , পিত্তথলি ও পিত্তনালির রোগ , ফ্যাটি লিভার , লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে ।
উপসর্গ
# লিভারে চর্বির মাত্রা বেড়ে গেলে বুকের নিচে ও তলপেটের ওপরে চাপ অনুভূত হয় । পেটে তরল জমে ফুলে যেতে পারে । বারবার বমি ভাব বা বমি হতে পারে ।
# খাওয়ার পর মুখে তেতো ভাব অনুভূত হওয়া ।
# অল্পতেই ক্লান্তি বোধ হওয়া । বেশি পরিশ্রম না করা সত্ত্বেও সহজেই ক্লান্তি ভাব লিভার খতিগ্রস্ত হওয়ার একটা লক্ষণ হতে পারে ।
# দেহের ত্বকে হলুদভাব দেখা গেলে তা লিভার রোগের অন্যতম একটি লক্ষণ । সাধারণত জণ্ডিস হলে লিভার রক্তের বিলিরুবিন পরিশোধন করতে সক্ষম হয় না ।
# লিভার সমস্যা থেকে পিত্ত বা পিত্তনালীর বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হতে পারে ।
# চোখের ওপরে ব্যাথা হওয়া । হলদে চোখ লিভার রোগের নির্দিষ্ট উপসর্গ ।
# চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়ার পর লিভার জনিত সমস্যায় পেট ব্যাথা হওয়া , মাথা ঘোরা , ডায়রিয়া হতে পারে ।
# বহুদিন যাবত লিভারের সমস্যা থাকলে প্রস্রাব গাঢ় রঙের হয় এবং মল সাদা বা ফ্যাকাসে ধরণের হতে পারে ।
# পা ফোলা , পেশী ও জয়েন্টে ব্যাথা লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণ ।
# অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা লিভারে চর্বি জমার অন্যতম কারণ যা শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে । এজন্য উচ্চ কোলেস্টেরল , ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ।
প্রতিরোধে করণীয়
< লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন- সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা লিভার পরিষ্কারে ভূমিকা রাখে । প্রতিদিন একগ্লাস লেবু মিশ্রিত পানি পান করলে প্রাকৃতিকভাবেই লিভারের সমস্যা কমে যাবে ।
< গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের সুস্থতায় কাজ করে । দিনে দুকাপ গ্রিন-টি পান লিভারের সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে ।
< অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হলুদ লিভারের সমস্যা প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী । দুধের সাথে সামান্য হলুদ মিশিয়ে খেলে লিভারের সমস্যা অনেকটাই কমে যায় ।
< লিভারের সমস্যা দূর করার অন্যতম উপায় হচ্ছে আপেল সাইডার ভিনেগার । এক গ্লাস পানিতে এক চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে খেলে লিভারের কার্যকারিতা ঠিক থাকে ।
< এক চামচ আদা গুঁড়ো গরম পানিতে মিশেয়ে খেলে তা লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়া প্রায় বন্ধই করে দেয় ।
< আমলকীর ভিটামিন সি লিভারকে দূষণমুক্ত রাখে । লিভার রোগে আক্রান্ত রোগী প্রতিদিন এক চামচ আমলার রস খেলে দ্রুত সুস্থ হবেন ।
< লিভার পরিষ্কার রাখার জন্য উত্তম খাবার রসুন । এর এনজাইম লিভারের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে ।
< প্রতিদিন একটি আপেল লিভারের সুস্থতা রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর । এটি দেহের পরিপাক নালী ও রক্ত হতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও টক্সিন দূর করে লিভারকে সুস্থ রাখে ।
< পেঁপের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে তা লিভার সমস্যায় দারুণ উপকারী ।
< অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার ও কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে ।
< অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে ।
< নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম লিভার ও দেহের সুস্থতায় অতীব জরুরী ।
বংশগতভাবে লিভারের সমস্যা থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলতে হবে ।স্বাস্থ্য ভালো রাখার পূর্বশর্ত হলো একটি সুস্থ লিভার । তাই এর যত্ন করা একান্ত প্রয়োজন ।
এইচ/আ/
ছবিঃ সংগ্রহ

