টোকিও-ওয়াশিংটন ডিসিতে মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু
টোকিও-ওয়াশিংটন ডিসিতে মুজিব বর্ষের ক্ষণগণনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু
টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা- কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী মুজিববর্ষ উদযাপনের ক্ষণগণনা শুরু উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রবাসী বাংলাদেশীসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দূতালয় প্রধান ড. জিয়াউল আবেদীন।
দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবারের সদস্য, জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়া ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও ক্ষণগণনা শুরু উপলক্ষে দেয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
পরে এক উম্মুক্ত আলোচনায় দূতাবাসের চার্জ দ্যা আফ্যায়ারস ড. শাহিদা আকতার বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙ্গালী জাতি দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা চিন্তাও করা যায় না, আর তাই ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয় পূর্ণতা পায়।
তিনি আরো বলেন, পুরো বিশ্বের সাথে একাত্ম হয়ে জাপানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসও বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ উদযাপনের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করবে, অনুষ্ঠানগুলো সার্থক ও সফল করার জন্য তিনি জাপান প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী ও কর্মময় জীবনের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ১০০ রঙিন বেলুন আকাশে উড়িয়ে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা ঘোষণা করেন। এর আগে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।
অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন দিবস এবং মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। দূতাবাসের ডিফেন্স এ্যাটাসে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম মইনুল হাসান এসপিপি, এনডিসি, পিএসসি, মিনিস্টার (ইকনমিক) মো: মেহেদী হাসান, মিনিস্টার (প্রেস) শামিম আহমদ এবং মিনিস্টার (কনস্যুলার) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাণী পাঠ করেন। এছাড়া মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর মত এমন কারিসম্যাটিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাঙালি জাতি আর কখনো পাবে না। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করে দিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তার পিতার দর্শন সোনার বাংলা গড়ার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বাঙালি জাতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। মুজিববর্ষ উদযাপন দেশের নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ এবং আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে আরো উৎসাহিত করবে বলে তিনি মনে করেন।
ছবিঃ সংগ্রহ

