গণঅভ্যুত্থান দিবস

ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ

আজ ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস । গণমানুষের স্বাধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছিল এ দিনে ।তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মুক্তি সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান । এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ।

১৯৬৮ সালে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয় , তা ছড়িয়ে পড়ে সকল শ্রেণী- পেশাজীবী সাধারণ মানুষের মধ্যে । শিল্প শ্রমিক এবং সাধারণ নিম্ন- মধ্য আয়ের পেশাজীবীদের মধ্যে আন্দোলন ক্রমশ সংগ্রামে রূপ নেয় । বস্তুত ১১ দফা কর্মসূচীর মাধ্যমে ছাত্র নেতৃবৃন্দের গৃহীত পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী । আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টিও এসময় থকেই প্রাধান্য পেতে শুরু করে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ সহ ছাত্র সংগ্রাম কমিটির পূর্ব বাংলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ঊনসত্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ।

রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ও দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণজাগরণ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় । প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে আসাদুজ্জামান , নবম শ্রেণীর ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হলে ঢাকার পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় । এসময় অনির্দিষ্ট কালের জন্য সবান্ধ্য আইন বলবৎ করা হয় । ঊনসত্তরের একুশে ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচার বিরোধিতায় নতুন মাত্রা যোগ করে ।

গণআন্দোলনের প্রবল চাপে শেষ অবধি ২৫ মার্চ লৌহ মানব আইয়ুব খান সেনা বাহিনী প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন । নতুন করে জারি হয় সামরিক শাসন । তবে ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন ও দেশে পার্লামেন্টারি ব্যবস্থা চালু করার দাবি স্বীকৃত হয় ।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পূর্ববাংলার জনগণের মধ্যে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয় । ৫২’র ভাষা আন্দোলন ,৬ দফা সনদ , ১১ দফা ও ৬৯’ এর গণঅভ্যুত্থান এর ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামের মধ্য দিয়ে একাত্তরে বাঙালি জাতির কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জিত হয় ।

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর