কামরুল হাসান

চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বরেণ্য চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। জাতীয় কবিতা উৎসবে সভাপতি থাকাকালীন মঞ্চে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ১৯৮৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন এ বরেণ্য চিত্রশিল্পী । বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার নকশা করেছিলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার আঁকা পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের দানবমূর্তি-সংবলিত পোস্টার ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। দেশের জাতীয় প্রতীকসহ বাংলাদেশ ব্যাংক, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, পর্যটন করপোরেশন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মনোগ্রাম অঙ্কন করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন তিনি।

কামরুল হাসান দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের তথ্যকেন্দ্রের প্রধান শিল্পী এবং শিশু সংগঠন মুকুল ফৌজ ও বিসিক নকশাকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা। চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায়ও তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।

১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর কলকাতার শহরতলিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই সফল সংগঠক হিসেবে নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন তিনি। কামরুল হাসান কলকাতায় তিনজিলা গোরস্তান রোডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার পৈতৃক নিবাস নারেঙ্গ গ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ। তার বাবা মুহাম্মদ হাসিম ছিলেন একটি স্থানীয় কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক।

শিল্পচর্চায় অসাধারণ অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে দেশের “সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার” হিসাবে পরিচিত “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় তাকে। এছাড়াও তিনি প্রেসিডেন্ট’স গোল্ড মেডাল (১৯৬৫), বাংলাদেশ চারু শিল্পী সংসদ সম্মাননা (১৯৮৪) ও বাংলা একাডেমির ফেলো (১৯৮৫) সম্মাননা পেয়েছেন। ১৯৬৫সালে পাকিস্তান সরকার কতৃক প্রাইড অফ পারফরম্যান্স পুরস্কার প্রদান করেন চিত্রাঙ্কন এ উলেখ্যযোগ্য অবদানের জন্য।

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর