ইন্টারনেট

ক্ষতিকারক কনটেন্টে লাইক দেওয়া, শেয়ার করা, মন্তব্য করা, আপলোড করা অপরাধ

ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সকলে মিলে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। রাজধানীর আগারগাঁওস্থ আইসিটি মিলনায়তনে ‘নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস – ২০২০’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও অনলাইন সেফটি ফর চিলড্রেন সার্টিফিকেশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়াতে কোন বিষয় শেয়ার করার পূর্বে এর ভালমন্দ দিক ভাবতে হবে। জ্ঞান আহরণ ও জ্ঞানের বিশাল দুনিয়াতে প্রবেশ করতে ইন্টারনেটের বিকল্প নেই। মেধা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে জয় করতে হবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ডিভাইজ ব্যবহারের বিষয়ে বাবা ও মায়েদের গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন কিছু পোস্ট করা, ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠানো এবং গ্রহণের পূর্বে যাচাই বাছাই করে সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রতিমন্ত্রী ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার ও তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হওয়ার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

পলক বলেন, বাংলাদেশ জুড়ে এই কোর্সে অংশগ্রহণকারী ১০ লাখ স্কুল শিশু নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার সংক্রান্ত সনদ পাবে। আগামি এক বছরের মধ্যে, যা কেবল তাদের অনলাইন অভিজ্ঞতাকেই নিরাপদ করবে না, দেশকেও নিয়ে যাবে একটি অনন্য বিশ্ব রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে।

পরে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী অনলাইন সেফটি ফর চিলড্রেন সার্টিফিকেশন কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত প্রশ্ন উত্তর পর্বে ৫জন বিজয়ী শিক্ষার্থীর মাঝে ৩০ হাজার করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

প্যানেল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফেইসবুকের ইন্ডিয়া, সাউথ এশিয়া এবং সেন্ট্রাল এশিয়া’র হেড অব পলিসি প্রোগ্রামস সেলি তাকরাল এবং বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

মনিরুল ইসলাম বলেন, দেশে যেসব কনটেন্টকে (সংবাদ, মন্তব্য, ভিডিও, অডিও) ক্ষতিকারক বলি, সেগুলোকে তিনটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়। পর্নোগ্রাফি, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে অসত্য সংবাদ, গুজব, ঘৃণা ছড়ানো এবং জঙ্গি উপাদান। এ তিন ধরনের কনটেন্টে লাইক দেওয়া, শেয়ার করা, মন্তব্য করা কিংবা এ সংক্রান্ত স্ট্যাটাস আপলোড করা অপরাধ। পর্নোগ্রাফি আইন ও ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের অধিকাংশ অপরাধই অজামিনযোগ্য। এসব ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে মামলা নিয়ে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতারের সুযোগ রয়েছে।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে ফেক আইডি খোলা, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন অনুযায়ী অপরাধ। শুধু ফেক আইডি খোলার অপরাধেই কাউকে সাজার আওতায় আনা সম্ভব। আমরা যখন কোনো ফেক আইডি চিহ্নিত করতে পারি কিংবা বুঝতে পারি সেখান থেকে ক্ষতিকর জিনিস ছড়ানো হচ্ছে—তখন ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করি।

সরকারের কাছে ক্ষতিকারক মনে হলেও (ফেসবুকের) কমিউনিটির স্ট্যান্ডার্ডের স্বার্থের কারণে ফেসবুকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ করেন মনিরুল ইসলাম।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, দেশের আইনে কেউ সিমকার্ড কিনতে গেলে এনআইডি দিতে হয়। অর্থাত্ ১৮ বছরের নিচের কেউ সিমকার্ডের মালিক হতে পারে না। কিন্তু ফেসবুকের নীতি অনুযায়ী, কেউ ১৩ বছরের ওপরে হলেই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে।’ সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ১৮ বছরের বাধ্যবাধকতা ও এনআইডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেন জুনায়েদ আহমেদ পলক। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ফেসবুকের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার হেড অব পলিসি প্রোগ্রামস শেলি থাকরাল এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

এ সময় ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি বলেন, সাইবার প্রযুক্তির ঝুঁকি ও সম্ভাবনা বিবেচনা করা এবং ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সম্মিলিত প্রজ্ঞা ও শক্তি ব্যবহারের সময় এসেছে। শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করা কোনো সমাধান হতে পারে না। কারণ এটি একই সঙ্গে বিশাল জ্ঞান ও তথ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে, যা আজকের এই বিশ্বে শিশুদের জন্য প্রয়োজন।

আইসিটি বিভাগ ও এর আওতাধীন দপ্তর বা সংস্থা এবং ইউনিসেফ -এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২ শতাধিক শিক্ষার্থী এসময় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, অনলাইন বিষয়ক ক্রমবর্ধমান সমস্যা ও প্রবণতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ২০০৪ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হচ্ছে।

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর