ছায়ানট

আন্তর্জাতিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুরস্কার পেলো ছায়ানট

সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ভারতের সম্মানজনক আন্তর্জাতিক টেগোর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ।

নয়াদিল্লির প্রবাসী ভারতীয় কেন্দ্রে সোমবার আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন ছায়ানটের সভাপতি ড. সানজীদা খাতুন । পুরস্কার তুলে দেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ । এসময় উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ড. মহেশ শর্মা ।

ছায়ানটকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছর এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ‘ বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন , সাংস্কৃতিক কারণে দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর একত্র হওয়ার ঘটনা খুবই অভাবনীয় । আর এর মূলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত রবীন্দ্রনাথেরই লেখা উল্লেখ করে মোদি বিশ্ব কবির আদর্শ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ছায়ানটের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন ।

সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির মূল্য রক্ষণাবেক্ষণর জন্য ভারত সরকার ২০১১ সালে পুরস্কারটি প্রবর্তন করেন । ২০১২ সালে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি সেতার শিল্পী রবি শঙ্করকে দিয়ে এ পুরস্কার প্রদান শুরু করেন । ২০১৩ সালে সঙ্গীতজ্ঞ জুবিন মেহতাকে এ পুরস্কারে ভূষিত করা হয় । ২০১৪ সালে এই পুরস্কার পেয়েছেন ভারতের মনিপুরী নৃত্যশিল্পী রাজকুমার সিংহজিৎ সিং । ২০১৬ সালে এই সম্মাননা দেওয়া হয় ভাস্কর রাম ভাঞ্জি সুতারকে । এ পুরস্কারের অর্থমূল্য এক কোটি রুপি । ‘ আন্তর্জাতিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুরস্কার’ হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০তম জন্ম বার্ষিকীতে চালু করা একটি বিখ্যাত সম্মাননা ।

অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের পর সানজীদা খাতুন বলেন , ছায়ানটকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে ভারত এই সাংস্কৃতিক সংগঠনকে কৃতজ্ঞতার ঋণে আবদ্ধ করলো । এই সম্মাননা ছায়ানটকে তার প্রগতিশীল কার্যক্রমে আরও অনুপ্রাণিত করবে ।

জুরির সিদ্ধান্তটি গুরুদেবের সার্বজনীন মানবতাবাদের উদার প্রগতিশীল ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার জন্য এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির প্রচারে সংগঠনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ।

১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ছায়ানটের রয়েছে রবীন্দ্রচর্চা সহ নানা সাংস্কৃতিক কাজের গৌরবময় ঐতিহ্য । বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল ছায়ানট । বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে আছে ছায়ানটের নাম । তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্র সংগীত নিষিদ্ধ হলে ছায়ানট গোপনে রবীন্দ্রনাথের গানের সুর ও রচনার মাধ্যমে উদার অভিব্যক্তি প্রচার করে ।

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর