আজ ভাষাবিদ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র জন্ম বার্ষিকী
আজ ভাষাবিদ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র জন্ম বার্ষিকী
আজ ভাষাবিদ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র জন্ম বার্ষিকী। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিম বাংলার চব্বিশ পরগনার বশিরহাট মহকুমার পেয়ারা গ্রামের এক প্রখ্যাত সুফি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন একাধারে ভাষাবিদ, গবেষক, লোকবিজ্ঞানী, অনুবাদক, পাঠক সমালোচক, সৃষ্টিধর্মী সাহিত্যিক, কবি, ভাষাসংগ্রামী। ২৪টি ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। ১৮টি ভাষার ওপর অসাধারণ পাণ্ডিত্য ছিল এ ভাষাবিদের।
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এমেরিটাস অধ্যাপক পদ লাভ করেন। একই বছর ফ্রান্স সরকার তাকে সম্মানজনক পদক নাইট অফ দি অর্ডারস অফ আর্টস অ্যান্ড লেটার্স দেয়। ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ তাঁকে ‘বিদ্যাবাচস্পতি’ উপাধিতে ভূষিত করে। পাকিস্তান আমলে তাকে ‘প্রাইড অফ পারফরমেন্স পদক’ ও মরণোত্তর হিলাল ই ইমতিয়াজ খেতাব প্রদান করা হয়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্স তাঁকে সম্মানিত সদস্য (ফেলো) রূপে মনোনয়ন করে কিন্তু পাকিস্তান সরকারের অনুমতি না থাকায় তিনি তা গ্রহণ করেননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে মরণোত্তর ‘ডি লিট’ উপাধি দেয়। ১৯৮০ সালে মরণোত্তর বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়।
শহীদুল্লাহ সাহিত্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আজীবন। এম.এ পাশ করার পরই তিনি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির সম্পাদক হন। ১৯৪৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন। তিনি উর্দু অভিধান প্রকল্পেরও সম্পাদক ছিলেন। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ অনেক বই লিখেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –
ভাষা ও সাহিত্য।
বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত।
দীওয়ানে হাফিজ।
রুবাইয়াত-ই-ওমর খৈয়াম।
নবী করিম মুহাম্মাদ।
ইসলাম প্রসঙ্গ।
বিদ্যাপতি শতক।
বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড)।
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ।
ব্যাকরণ পরিচয়।
বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান।
মহররম শরীফ।
টেইল ফ্রম দি কুরআন।
Buddhist Mystic Songs (1960).
Hundred Sayings of the Holy Prophet.
বহু ভাষাবিদ, পণ্ডিত ও প্রাচ্যে অন্যতম সেরা ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন একজন খাঁটি বাঙালি ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান। জাতিসত্তা সম্পর্কে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র স্মরণীয় উক্তি ছিল, আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙ্গালী।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরই দেশের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে বাংলা-কে রাষ্ট্র ভাষা করার পক্ষে যে ক-জন ব্যক্তি জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তার এই ভূমিকার ফলে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের পথ অনেকখানিই প্রশস্ত হয়।
তিনি ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই ৮৪ বছর বয়সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ঢাকার কার্জন হলের কাছে ঐতিহাসিক মুসা মসজিদের পশ্চিম-উত্তর পাশে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।
ছবিঃ সংগ্রহ

