অরোরা আকাশে প্রাকৃতিক আলোর প্রদর্শনী
অরোরা আকাশে প্রাকৃতিক আলোর প্রদর্শনী
অরোরা বা মেরুজ্যোতি আকাশে প্রাকৃতিক আলোর প্রদর্শনী । অরোরা যা হাজার হাজার বছর ধরে ঘটে চলেছে পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র। কিন্তু শুধুমাত্র উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে অরোরা চোখে দেখা যায় । বিষুব অঞ্চলে অরোরার দৃষ্টিনন্দন আলোর দ্যুতি দেখা যায় না । মেরু অঞ্চলের আকাশে দৃশ্যমান মনোরম বাহারী আলোকছটা যা একসময় অতি প্রাকৃতিক বলে বিবেচনা করা হতো , বর্তমানে তা নিতান্তই প্রাকৃতিক শোভা হিসেবেই প্রমাণিত।
অরোরা বা মেরুজ্যোতি আকাশে প্রাকৃতিক আলোর প্রদর্শনী । অরোরা যা হাজার হাজার বছর ধরে ঘটে চলেছে পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র। কিন্তু শুধুমাত্র উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে অরোরা চোখে দেখা যায় । বিষুব অঞ্চলে অরোরার দৃষ্টিনন্দন আলোর দ্যুতি দেখা যায় না । মেরু অঞ্চলের আকাশে দৃশ্যমান মনোরম বাহারী আলোকছটা যা একসময় অতি প্রাকৃতিক বলে বিবেচনা করা হতো , বর্তমানে তা নিতান্তই প্রাকৃতিক শোভা হিসেবেই প্রমাণিত।

সাধারণত বায়ুমণ্ডলের থার্মোস্ফিয়ারে থাকা অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পরমাণুর সাথেম্যাগ্নেটস্ফিয়ার থেকে আসা চার্জিত কণার সংঘর্ষেই সৃষ্টি হয় অরোরা । ইলেকট্রন সাধারণত পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র বরাবর আবস্থান করায় শুধুমাত্র মেরু অঞ্চলেই অরোরা দৃশ্যমান হয় । উত্তর অক্ষাংশে অরোরা বোরিয়ালিস নামে পরিচিত এবং দক্ষিণ অক্ষাংশে একে বলা হয় অস্ট্রালিস । প্রায়ই রাতের আকাশে উজ্জ্বল রঙিন আলোর দীপ্তি নিয়ে উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশে দৃশ্যমান হয় এই অরোরা । সাধারণত ৮০ থেকে ১৬০ কি মি. উচ্চতায় অরোরা দেখাযায় , আবার কোনটি ১০০০ কি মি. উঁচুতেও দেখা যায় ।

অরোরা বিভিন্ন রঙের হয় । এর রঙ নির্ভর করে কোন গ্যাসীয় পরমাণু ইলেকট্রনের সাথে উদ্দীপ্ত হচ্ছে এবং কত শক্তি বিনিময় হচ্ছে তার উপর ।আধিকাংশ অরোরাই সবুজাভ – হলুদ রঙের । অক্সিজেনের জন্য অনেক ক্ষেত্রে লালা রঙের অরোরা সৃষ্টি হয় । নাইট্রোজেন সাধারণত নীল রঙের আলো দেয় । এছাড়া আক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পরমাণু হতে অতি বেগুনী রশ্মি নির্গত হয় । যা খালি চোখে দেখা যায় না ,কেবল স্যাটালাইটের সাহায্যে শনাক্ত করা যায় । অরোরার দৃশ্যগুলো কোনটি বৃত্তাকার ,কোনটি ছড়িয়ে পড়া আলোর মতো আবার কোনটি পাখার আকৃতির ।

প্রাচীনকালে মেরু অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছে অরোরা ছিল এক রহস্যময় শক্তি, অতি প্রাকৃতিক কোন ব্যাপার । তাদের বিশ্বাস ছিল , এটি স্বর্গীয় আলো , যা স্বর্গ থেকে শুরু হয়ে পৃথিবীতে এসে শেষ হয়েছে । মৃত্যুর পর এ পথেই আত্মা স্বর্গের সন্ধান লাভ করে । আবার অনেকে মনে করতো এটি সৃষ্টিকর্তার ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা । সবুজ প্রভা ভবিষ্যতের সুখ ও উন্নতির আভাস , লাল প্রভা ভবিষ্যতের সংকট ও দুর্যোগ আর লোহিত রক্তিম মেরুপ্রভাকে যুদ্ধের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হতো । চৈনিক পুরাণে অরোরাকে তুলনা করা হয়েছে ড্রাগনের রূপকথার সাথে ।


প্রচলিত আছে ৫৯৩ খ্রিস্টপূর্বের চতুর্থ মাসে গ্রিসের আকাশে অরোরা দেখা যায় । দার্শনিক অ্যানাক্সিমেনেস তাঁর বইতে সে কথা উল্লেখ করেন । জেনোফেনেস একে ‘ চলমান দগ্ধ মেঘ এর একীভূত হওয়া ‘ বলে অভিহিত করেছেন। হিপোক্রেটিস দেখেছেন সূর্যালোকের প্রতিফলন জনিত ঘটনা হিসেবে । অ্যারিস্টটল বর্ণনা করেছেন দীপ্তমান মেঘ হিসেবে । খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে থিয়োফ্রাস্টাস অরোরার সাথে সৌরকলঙ্কের সম্পর্কের কথা বলেন । এর প্রায় দু’হাজার বছর পর গ্যালিলিও তাঁর টেলিস্কোপ দিয়ে প্রথমবারের মতো সৌরকলঙ্ক পর্যবেক্ষণ করেন । সতেরো শতকে এডমন্ডহ্যালি অরোরার চৌম্বক ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেন । প্রায় কাছাকাছি সময়ে বিজ্ঞানী আন্দ্রেস সেলসিয়াস হ্যালির কথার পুনরাবৃত্তি করেন । ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে নরওয়ের বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান বার্কল্যান্ড তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন , চৌম্বকক্ষেত্রে একটি আলোকরশ্মি ফেললে তা চৌম্বক বলরেখা অনুসরণ করে দুটি চৌম্বক মেরুতে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং সেই মেরুকে ঘিরে আলোর বলয় তৈরি করে । সৌরকলঙ্ক থেকে উৎপন্ন ইলেকট্রন এভাবেই পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রকে অনুসরণ করে মেরুতে গিয়ে অরোরা গঠন করে । অরোরার ক্ষেত্রে এটিই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ।
অরোরা

ক্যানাডা , আলাস্কা ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার কিছু অঞ্চলে প্রায় নিয়মিত অরোরা চোখে পড়ে । তবে সূর্যালোকের প্রভাবে দিনের বেলা পৃথিবী থেকে অরোরা দেখা যায় না । ফ্লোরিডা ও জাপানে প্রতি দশকে একবার কিংবা দু’বার অরোরা দেখা যায় । এছাড়া বছরে কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর সীমান্তে অরোরা দৃশ্যমান হয় । এটি কেবলমাত্র পৃথিবীর জন্য অনন্য কোন ঘটনা নয় , শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র বিদ্যমান এমন প্রতিটি গ্রহে অরোরা ঘটে থাকে । বৃহস্পতি, শনি , ইউরেনাস ও নেপচুন এ চারটি গ্যাসীয় গ্রহে অরোরা অতি স্বাভাবিক ঘটনা ।
অরোরা

tor-e-tokka.com# h/@.
ছবিঃ গুগল

