জফরুল্লাহ

ঔষধ প্রশাসন ব্যবসায়িক স্বার্থে জাতীয় স্বার্থের বিপক্ষে কাজ করছে – ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী

করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট গ্রহণ করেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বললেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

 আজ রোববার বিকেলে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের গেরিলা কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দার বীর বিক্রম মিলনায়তনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কিট হস্তান্তর করার জন্য পূর্বনির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিন জন গবেষক অধ্যাপক ড.বিজন কুমার শীল, ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার ও ড. ফিরোজ আহমেদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে যান। কিন্তু তিনি সেই কিট গ্রহণ করেননি, বরং গবেষক দলের সদস্য ড. ফিরোজ আহমদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন।

তিনি বলেন, এত বড় একটি জাতীয় দুর্যোগ চলছে, কিন্তু কিছু সরকারি আমলা সেই দুর্যোগটিই বুঝতে পারছেন না। তারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থটাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

সরাসরি ঘুষ চাওয়া না হলেও করোনা পরীক্ষার কিট নিয়ে গণস্বাস্থ্যকে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গত ৪৮ বছরে গণস্বাস্থ্য কাউকে ঘুষ দেয়নি, দেবে না। গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট (ব্যবহারযোগ্য হয়ে) আসুক আর না আসুক, কাউকে ঘুষ দেব না। কিন্তু লড়াই করে যাব।

দফায় দফায় চেষ্টার পর করোনা পরীক্ষার কিট গতকাল শনিবার সরকারের কাছে কিট হস্তান্তর করতে চেয়েছিল গণস্বাস্থ্য। তবে সরকারের কোনো প্রতিনিধি তাদের আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি। পরে আজ রোববার তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কিট নিয়ে গেলে তাও কেউ রাখেননি। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করে গণস্বাস্থ্য।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ব্যবসায়িক স্বার্থে জাতীয় স্বার্থের বিপক্ষে কাজ করছে। নানা অজুহাত দেখিয়ে গণস্বাস্থ্যের (করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ) কিট গ্রহণ করেনি সরকার। আমরা জনগণের স্বার্থে শুধু সরকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে কিটটি কার্যকর কিনা, তা দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারিভাবে প্রতি পদে পদে পায়ে শিকল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ঘুষ চাওয়া হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, না ঘুষ চাওয়া হয়নি। সেই সাহস তাদের নেই। গবেষণার দুর্নীতি এটা নতুন নয়। আপনাকে হয়রানি বারবার করা হলে এক সময় নিজে থেকে খোঁজ নিবেন বড় কর্মকর্তার বাসায় বাজার আছে কি না। ঘুষ তো নানাভাবে নেওয়া হতে পারে।  কিন্তু আমরা কাউকে টাকা দিতে পারব না।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা কিটের উদ্ভাবক ড. বিজন কুমার শীলসহ তিনজন এটি জমা দিতে যান। তবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর তা গ্রহণ করেনি। এমনকি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিনজনের একজনকে ওষুধ প্রশাসনের কার্যালয়ে প্রবেশও করতে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ জমা নেবেন না। আমরা গিয়েছিলাম, তারা জমা নেন নাই। বলে যে সিআরও নিয়ে আসেন। তারপরে বলল, এটা আপনারা ভেরিফিকেশন করে আনেন সিআরও থেকে। সিআরও হলো চুক্তিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ওখানে পয়সা দিতে হবে। কত খরচ লাগবে, তা উনারা (সিআরও) বাজেট দেবেন। এখন কি সেই সময় আছে। বাজেট দেবেন দেন দরবার হবে। আমরা বলে দিয়েছি কোনো টাকা দিতে পারব না।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে, কীভাবে তারা ব্যবসায়িক স্বার্থকে রক্ষা করছেন। তারা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে রেখে চলেন, তাতে তাদের লেনদেনে সুবিধা হয়। গত ৪৮ বছরে গণস্বাস্থ্য কাউকে ঘুষ দেয়নি, দেবে না। গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট (ব্যবহারযোগ্য হয়ে) আসুক আর না আসুক, কাউকে ঘুষ দেব না। কিন্তু লড়াই করে যাব।

তিনি বলেন, গতকাল আমরা এখানে কিট হস্তান্তরের একটি উদ্যোগ নিয়েছিলাম, এটার অনুমোদনের জন্য। এটা অনুমোদন করার দায়িত্ব হলো ওষুধ প্রশাসনের। দুর্ভাগ্যবশত, ওষুধ প্রশাসন এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, তারা না ফার্মাসিস্ট, না ফার্মাকোলজিস্ট। তার ফলে এই জিনিসগুলোর গুরুত্ব সেভাবে তারা উপলব্ধি করতেই সক্ষম হচ্ছেন না। তারা সম্পূর্ণ ব্যবসায়ী স্বার্থ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন।

এই অবস্থায় কী করবে গণস্বাস্থ্য এমন প্রশ্নের জবাব জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমরা কোনো দয়াদাক্ষিণ্য চাই না। আমরা বারবার এমন চিঠি চাই না। আমরা চাই একটা চিঠি দিয়ে বলবে আপনারা বিএসএমএমইউতে টেস্ট হচ্ছে সেখানে নির্ধারিত ফি দিয়ে জমা দিন। সেখানে চার্জ আসবে সেটা আমরা দেব। সেটা ১০ হাজার হলে দেব কিন্তু কোটি টাকা দিতে পারব না।

সংবাদ সম্মেলনে গণস্বাস্থ্যের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত কিটের কোনো নীতিমালা সরকারের নেই। আর এমন জরুরি অবস্থায় এখন কিসের নীতিমালা। এর মধ্যেও যতপ্রকারের ডকুমেন্ট চেয়েছে সব জমা দিয়েছি। যতগুলো কাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করতে বলেছে, আমরা তা ধাপে ধাপে করেছি। তারা আজকে যখন সিআরওর কথা বলছে তখন সেটা আপনারা করবেন।

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর