ক্রিস্টমাস ট্রি – বড়দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ
ক্রিস্টমাস ট্রি – বড়দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ
বড়দিন উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ক্রিস্টমাস ট্রি । রঙ বেরঙের ফুল , ফল , পাখি , বাতি দিয়ে সাজানো হয় ক্রিস্টমাস ট্রি । ক্রিস্টমাস ট্রি হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয় ফার গাছ , এতি মূলত দেবদারু প্রজাতির গাছ । এছাড়া ঝাউ গাছকেউ ক্রিস্টমাসে সাজানো হয়ে থাকে । ক্রিস্টমাসের পুরো আনন্দটাই জুড়ে থাকে এই ট্রি সাজানো নিয়ে ।
বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছকে ক্রিস্টমাস ট্রি হিসেবে সাজানো হয় । তবে Picea abies নামক গাছকে মূল ক্রিস্টমাস ট্রি হিসেবে বিবেচনা করা হয় । গ্রিক শব্দ pissa থেকে picea শব্দটি এসেছে । ইউরোপে সাধারণভাবে picea বলতে পাইন গাছকেই বোঝায় আর abies হলো ফার জাতীয় গাছের সাধারণ নাম । এর আদি নিবাস ইউরোপে বলেই একে European sprucel বলা হয়ে থাকে । দ্রুত বর্ধণশীল চির সবুজ গাছটি লম্বায় ৩৫-৫৫ মিটার হয়ে থাকে ।

ক্রিস্টমাস ট্রি সাজানোর বিষয়ে ধারণা করা হয় , ষোল শতকে জার্মানিতে এর প্রচলন হয়েছিল । ইউরোপীয় সংস্কৃতির সাথেই জড়িয়ে আছে ট্রি সাজানোর শুরুটা । খ্রিস্টান বিশ্বাস অনুসারে , জার্মানির গেইসমার শহরের সাধু সেইন্ট বনিফেস (৬৭২- ৭৫৪) প্রাচীন ওক গাছের মূলে একটি দেবদারু জাতীয় ফার গাছের বেড়ে ওঠা দেখতে পেয়েছিলেন । এটাকেই তিনি যিশুখ্রিস্টের প্রতি বিশ্বাসের চিহ্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন । তবে বর্তমানে চলমান প্রথার প্রচলন করেছিলেন মার্টিন লুথার । স্বর্গোদ্যানের ট্রি অফ লাইফ হিসেবে এপ্রথার প্রচলন করেন তিনি । তখন থেকেই এগাছ গুলোকে পিরামিডের মতো করে সাজানো শুরু হয় ।
মার্টিন লুথারই প্রথমে মোমবাতি দিয়ে গাছকে সুসজ্জিত করা শুরু করেন । এতে ছোট ছোট তারা , অ্যাপেলও সংযোজন করেন তিনি । ১৮৩০ সনে জার্মান অভিবাসীদের হাত ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিসমাস ট্রির প্রচলন শুরু । ১৮৪০ সনেও এটিকে পৌত্তলিক ধর্মের অংশ হিসেবেই দেখা হতো ।

যুক্তরাজ্যে ক্রিস্টমাস ট্রির জনপ্রিয়তার কৃতিত্ব মূলত রানি ভিক্টোরিয়ার । ১৮৪৮ সনে বড়দিনের আগে রানি তাঁর জার্মান স্বামী প্রিন্স অ্যালবার্টের কাছে আবদার করেন, ছেলেবেলায় বড়দিনে যেভাবে গাছ সাজানো হতো সেভাবেই যেন তিনি একটা গাছকে সাজান । প্রিন্স অ্যালবার্ট জার্মান রীতিতেই সবুজ একটি গাছকে মিষ্টি , মোমবাতি , বিভিন্ন অলঙ্কার দিয়ে সাজান । সেই ছবি লন্ডনের পত্র পত্রিকায় ছাপা হলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চবিত্তদের মধ্যে শুরু হয় ক্রিস্টমাস ট্রি সাজানোর প্রতিযোগিতা । টমাস আলফা এডিসনের সহযোগী এডওয়ার্ড জনসন ১৮৮২ সনে ক্রিস্টমাস ট্রিতে আলোক সজ্জায় বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করেন । সেই থেকে মোমবাতির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার হয়ে আসছে । যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ তম প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন হ্যারিসনের সময় ১৮৮৯ সনে হোয়াইট হাউসে প্রথমবারের মতো ক্রিস্টমাস ট্রি সাজানো হয় । এরপর থেকেই ক্রিস্টমাস ট্রি বড়দিনের মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে ।
খ্রিস্টধর্ম প্রচলনের বহু আগে গলদেশ বর্তমানে ফ্রান্স এর অধিবাসীরা তুষার ঝরা শীতে চিরহরিৎ গাছগুলোকে নানাভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখত । প্রাচীনকালে শীতপ্রধান দেশের অধিবাসীদের কাছে পাইন বা দেবদারু গাছই ছিল সৌভাগ্যের প্রতীক । তারা মনে করত বাড়ীর আঙিনার এই গাছগুলিই যেকোন অশুভ শক্তি থেকে তাদের রক্ষা করবে । প্রাচীন রোমানরা কৃষিদেবতার সম্মানে যে উৎসব করত তাতে তারা নিজেদের ঘরবাড়ি , মন্দির চিরসবুজ পাইন গাছের ডালপালা দিয়েই সাজাত । ভাইকিংরাও তাদের সূর্যদেবতা ভালদার প্রিয় গাছ হিসেবে বিবেচনা করত এইগাছকেই ।

প্রথা অনুসারে , ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার আগে ক্রিস্টমাস ট্রি সাজানো যায় না । আর ১২ তম রাতে , ৬ জানুয়ারি এটি সরিয়ে ফেলা হয় । অনেকেই মনে করেন এই নিয়ম না মানা হলে অমঙ্গল হতে পারে । জার্মান রীতিতে ২৪ ডিসেম্বর সাজানো হয় , ৭ জানুয়ারি খুলে ফেলা হয় । ক্যাথলিক রীতিতে জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সাজিয়ে রাখা হয় । অস্ট্রেলিয়ায় ডিসেম্বরের শুরুতে সাজিয়ে গ্রীষ্মের ছুটি পর্যন্ত রাখা হয় ।
tor-e-tokka,com# h/@.
ছবিঃসংগ্রহ

