ঢাকা শহর

ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নতুন ধরনের ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর পর যানবাহন চলাচলে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। সিগন্যাল মেনে গাড়ি চলার পাশাপাশি পথচারীদের রাস্তা পারাপারেও আগের তুলনায় নিয়মানুবর্তিতা দেখা যাচ্ছে। এবার নগরীর আরও ৫০টি ইন্টারসেকশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তত্ত্বাবধানে তৈরি এসব সিগন্যালের কয়েকটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে ট্রাফিক আইন অমান্য করা যানবাহন শনাক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নতুন পরিকল্পনায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২৮টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২২টি ইন্টারসেকশনে এ ধরনের সিগন্যাল স্থাপন করা হবে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামানের মতে, নতুন ব্যবস্থাটি আগের তুলনায় বেশি স্বয়ংক্রিয়। ফলে এটি পরিচালনায় সব সময় আলাদা অপারেটরের প্রয়োজন হবে না। যানবাহনের চাপ অনুযায়ী সিগন্যালের সময় নির্ধারণ করা যাবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ ট্যাব ব্যবহার করেও সিগন্যালের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে পারবেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভ্যাস থেকে নগরবাসীকে নিয়মতান্ত্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থায় আনতে সময় লাগবে। তবে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থার বিষয়ে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যেসব এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে পথচারী রাস্তা পার হন কিংবা ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল রয়েছে, সেখানে এআইভিত্তিক সিগন্যাল কাঙ্ক্ষিতভাবে কাজ করতে বাধার মুখে পড়ে।

ট্রাফিক সার্জেন্ট তারিকুলের ভাষ্য, সড়কে অনিয়ন্ত্রিত পারাপার ও ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেশি থাকলে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।

এদিকে নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অতিরিক্ত জনবলও প্রয়োজন হচ্ছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালনায় দক্ষতা বাড়াতে ‘ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট’ নামে একটি বিশেষায়িত দল গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই ইউনিটের সদস্যদের প্রস্তুত করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এআই ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল স্থাপন করলেই ঢাকার ট্রাফিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, অনিয়ন্ত্রিত পথচারী পারাপার এবং নিয়মবহির্ভূত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই প্রযুক্তিটির পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব।

আরও খবর