রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী

বিশিষ্ট সাংবাদিক, উপন্যাসিক ও সম্পাদক রাহাত খানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক, উপন্যাসিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক সম্পাদক রাহাত খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, সাংবাদিক রাহাত খান স্বাধীনতা চর্চা ও সমাজের অগ্রযাত্রায় অসামান্য অবদান রেখেছেন।

আবদুল হামিদ বলেন, তার (রাহাত খান) মৃত্যু সাংবাদিকতা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে সত্যিকার অর্থেই অপূরণীয় ক্ষতি।

জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান, একুশে পদক প্রাপ্ত এই সাংবাদিক বার্ধক্যজনিত জটিলতার কারণে শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় নগরীর ইস্কাটনে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রপ্রধান মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক রাহাত খানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এক শোক-বার্তায় প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে রাহাত খানের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, তার (রাহাত খান) মৃত্যুতে এইসব অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

শেখ হাসিনা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

রাহাত খান হৃদরোগ, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে তার মরদেহ আনা হবে।

রাহাত খান ১৯৪০ সালের ১৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার পূর্ব জাওয়ার গ্রামের খান পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে রাহাত খান ময়মনসিংহ জেলার নাসিরাবাদ কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও চট্টগ্রাম সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রাহাত খান ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৩), সুহৃদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৫), সুফী মোতাহার হোসেন পুরস্কার (১৯৭৯), আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮২), ত্রয়ী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৮) এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় একুশে পদক (১৯৯৬) পেয়েছেন।

বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনে রাহাত খান কথাশিল্প, ছোটগল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও উপন্যাসের নিপুণ কারিগরে পরিণত হন। ১৯৭২ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘অনিশ্চিত লোকালয়’ প্রকাশিত হয়। তার পরবর্তী উপন্যাস ও গল্পগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-অমল ধবল চাকরি, ছায়াদম্পতি, শহর, হে শূন্যতা, হে অনন্তের পাখি, মধ্য মাঠের খোলোয়াড়, এক প্রিয়দর্শিনী, মন্ত্রিসভার পতন, দুই নারী, কোলাহল ইত্যাদি।

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর