বুয়েট ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ হলো ছাত্র রাজনীতি
বুয়েট ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ হলো ছাত্র রাজনীতি
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ( বুয়েট ) ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে ।
এছাড়াও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়েরকৃত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে ১৯ জন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায় মিলনায়তনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠককালে এ কথা জানান ।
তিনি বলেন , ‘ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে আমাকে দেয়া ক্ষমতাবলে আমি বুয়েট ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনীতি বন্ধ ঘোষণা করছি। এখানে কোন সাংগঠনিক রাজনীতি থাকবে না । ‘
অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন , ক্যাম্পাসে র্যাগিং বন্ধ হবে এবং র্যাগিংয়ের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন , ‘ আবরার হত্যার পর আমার কিছু ঘাটতি ছিল। আমি আশা করি পিতৃতুল্য মনে করে তোমরা আমাকে ক্ষমা করবে ।’
নিহত আবরারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন , আবরার হত্যা মামলার সব খরচ বুয়েট কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও হলের কয়েকশ শিক্ষার্থী এসময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য , বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১০ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে ।
১০ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে বিকালে আলোচনায় বসেন ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।
বুয়েট শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবিগুলো হচ্ছে , আবরারের খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা , হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শুক্রবার বিকাল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা , মামলার সব খরচ ও আবরারের পরিবারের ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করা , দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তিতে বুয়েট প্রশাসনকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া এবং অবিলম্বে চার্জশিটের কপিসহ অফিসিয়াল নোটিস দেওয়া ।
এছাড়া বুয়েটে ‘সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি’ নিষিদ্ধ করা , বুয়েট ভিসি ও ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টাকে (ডিএসডব্লিউ) জবাবদিহি করা , আবাসিক হলগুলোতে র্যাগিংয়ের নামে ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে জড়িতদের ছাত্রত্ব বাতিলে পদক্ষেপ নেওয়া , নির্যাতন বিরোধী রিপোর্টের জন্য অফিসিয়াল সাইটে পোর্টাল খুলে ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার করা ও শের-ই-বাংলা হলের প্রভোস্টকে প্রত্যাহার করা ।
ছবিঃ সংগ্রহ

