অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের ৫ দৈনিক পত্রিকা
অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের ৫ দৈনিক পত্রিকা
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) আন্দোলন ও আজাদীর সম্পাদকের বাসা ঘেরাও কে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের পাঁচটি পত্রিকার প্রকাশনা। সম্পাদকদের সংগঠন ‘চট্টগ্রাম নিউজ পেপারস অ্যালায়েন্স’ অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রকাশনা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন কর্মরত সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত কর্মীরা।
প্রকাশনা বন্ধ থাকা পত্রিকাগুলো হলো— দৈনিক আজাদী, দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ, দৈনিক পূর্বদেশ।
কয়েকটি পত্রিকার মালিক কোরবানির ঈদে অর্ধেক বোনাস দিলে সংবাদকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ঈদের আগে পুরো বেতন ও বোনাসের দাবীতে পত্রিকার মালিক-সম্পাদকের বাড়িঘেরাও কর্মসূচি দেয় চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন )সিইউজে)। এর আলোকে গত ৩০জুলাই সকালে নগরের খলিফাপট্টি এলাকায় দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেকের বাসভবন ঘেরাও করে সমাবেশ করে সিইউজে। গত ২৯জুলাই বুধবার রাতে এ পাঁচটি দৈনিকে কাজ চললেও গভীর রাতে চট্টগ্রামের পত্রিকা মালিক-সম্পাদকের সংগঠন চট্টগ্রাম নিউজপেপার অ্যালায়েন্স সিদ্ধান্ত নেয় পরদিন (৩০জুলাই) পত্রিকা প্রকাশিত হবে না। এ প্রেক্ষাপটে ঈদের আগের বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পত্রিকা ৫টি প্রকাশিত হয়নি। ৪আগস্ট পর্যন্ত ঈদের ছুটি থাকায় ৫আগস্ট পত্রিকার প্রকাশের কথা থাকলেও তা হয়নি।
সিইউজে নেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়মাতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবীদাওয়া জানিয়ে আসলেও মালিকপক্ষ তাতে সাড়া না দেয়ায় তারা বাসাঘেরাও এর মতো কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
গত ২৯ জুলাই নগরীর ঘাটফরহাদবেগ এলাকায় দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেকের বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে সিইউজে। এরপর রাতে আজাদীসহ অন্যান্য পত্রিকায় কর্মরতরা জানতে পারেন, কর্তৃপক্ষ পত্রিকার প্রকাশনা ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরদিন দৈনিক পূর্বকোণ এবং পূর্বদেশ পত্রিকার সম্পাদকের বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছিল সিইউজে। তবে নিজ নিজ ইউনিটের নেতারা বেতন-বোনাস পেতে মালিকের আশ্বাস পেয়েছেন জানিয়ে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
ইতোমধ্যে সাংবাদিকেরা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে তাঁদের দাবী দাওয়া নিয়ে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।
জানা যায়,চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে সৃষ্ট ঘটনার যাবতীয় লিখিত আকারে জানানোর পাশাপাশি এখনো আশা করছেন সম্পাদকরা পত্রিকা প্রকাশনা চালু করবেন। প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচি দিবে সংগঠনটি।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, সাংবাদিকদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করতে এরকম হুট করে একযোগে পত্রিকা বন্ধ রাখা এটা নজিরবিহীন ঘটনা। আমরা ইতোমধ্যে তথ্যমন্ত্রীকে লিখিত ও মৌখিকভাবে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছি। সিইউজের নির্বাহী কমিটির জরুরী বৈঠক আছে সেখানেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচি দেওয়া হবে।
দৈনিক পূর্বদেশের সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, আমাদের একটা অ্যালায়েন্স আছে। সেখানে যতক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না, ততক্ষণ তো আমি একা পত্রিকা বের করতে পারব না। পত্রিকা বের করার বিষয়ে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, কিভাবে পত্রিকা বের করব? পত্রিকা বের করার কোনো পরিবেশ আছে? যেখানে নিজের ইজ্জত নিয়ে টানাটানি, সেখানে আমি পত্রিকা বের করে কী করব? বাংলাদেশে পত্রিকার ইতিহাস লিখতে গেলে অবশ্যই দৈনিক আজাদীর নাম আসবে। আবার মালিকের বাসার সামনে আন্দোলনের ইতিহাস লিখতে গেলেও আমার নাম আসবে। আমার পত্রিকা প্রকাশের খায়েশ মিটে গেছে। নিজের স্ত্রী-সন্তান ও পাড়াপ্রতিবেশির সামানে যদি কেউ আপনাকে অসম্মান করে আপনার কেমন লাগবে? পত্রিকা মালিকের বাসার সামনে এসে আন্দোলনের ইতিহাস কী অতীতে আর একটি আছে?
ছবিঃ সংগ্রহ

