আজম খান

আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী। সংগীতপ্রেমীদের কাছে তিনি পপ গুরু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই পপ সম্রাট। বাংলাদেশে পপগানের সূচনা হয়েছিল তাঁর হাত ধরেই।

আজম খান পপশিল্পী হিসেবেই নন, স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম একজন বীরযোদ্ধাও ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে লাকী আখন্দ ও হ্যাপি আখন্দ দুই ভাইকে নিয়ে ‘উচ্চারণ’ নামের একটি গানের দল গড়েন। এর মধ্য দিয়েই পপসংগীতে আজম খানের যাত্রা শুরু। সে বছরই বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে নারে’ ও ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’- এই গান দুটি তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। এরপর ‘ওরে সালেকা ওরে মালেকা’, ‘রেল লাইনের ঐ বস্তিতে’, ‘আসি আসি বলে তুমি আর এলে না’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘হারিয়ে গেছে খুঁজে পাব না’- এ গানগুলো গেয়ে শ্রোতাদের তিনি মাতিয়ে তোলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার আজিমপুর কলোনির ১০ নম্বর সরকারি কোয়ার্টারে জন্ম হয় আজম খানের। ১৯৮১ সালে ১৪ জানুয়ারি ৩১ বছর বয়সী আজম খানের সঙ্গে বিয়ে হয় সাহেদা বেগমের। আজম খান দুই মেয়ে এবং এক ছেলের জনক।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তিনি ক্যানসারের সঙ্গে এক বছরেরও বেশি সময় লড়েছিলেন। ব্যক্তিজীবনে শিল্পী আজম খান ছিলেন সহজ-সরল মানুষ। খোলা মনের মানুষও ছিলেন তিনি।

আজম খানের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ রেল লাইনের ঐ বস্তিতে, ওরে সালেকা ওরে মালেকা, আলাল ও দুলাল, অনামিকা, অভিমানী, আসি আসি বলে ইত্যাদি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় সংঘটিত কয়েকটি গেরিলা অভিযানে তিনি অংশ নেন। প্রথম কনসার্ট প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে ১৯৭২ সালে। সঙ্গীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর