চৈত্র সংক্রান্তি

আজ চৈত্রসংক্রান্তি

আজ ৩০ চৈত্র ১৪২৬। আজ চৈত্রসংক্রান্তি। বাংলা বছরের শেষ দিন। চৈত্র মাসের এই দিনটিকে বলা হয় চৈত্রসংক্রান্তি। বাংলার বিশেষ লোকজ উৎসব এই চৈত্রসংক্রান্তি। আবহমান বাংলার চিরায়িত নানা ঐতিহ্যকে ধারণ করে এ দিনটি। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরনোকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে নানা উৎসব আয়োজন।

প্রতিবছরই আবহমানকালের জমিদারির খাজনা আদায়সহ চৈত্রসংক্রান্তিকে ঘিরেই ঐতিহ্যবাহী হালখাতা উৎসব হয়ে থাকে। প্রতিবছর এই হালখাতা উৎসব ঘিরে ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করেন। দোকানপাট ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করেন দোকানিরা। এদিন বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয় ‘চৈত্রসংক্রান্তি’র শোভাযাত্রা। এক অন্যরকম আনন্দ ও উৎসবের ভেতর দিয়ে এই দিনটি পার করেন ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে থাকে নানা প্রস্তুতি।

চৈত্রসংক্রান্তির এই দিনটি প্রতিবছর রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকে। মেলা, ঘুড়ি উৎসব, রকমারি সব ঘুড়ির প্রদর্শনী, গ্রামবাংলার জনপ্রিয় লাঠিখেলা, পুঁথিপাঠ, পুতুলনাট্য, পালাগান, গম্ভীরা ও রায়বেশের মতো লোকসংস্কৃতির নানা আয়োজন থাকে।

চৈত্রসংক্রান্তির সবচেয়ে বড় আয়োজন চড়ক পূজা। চৈত্র মাসজুড়ে সন্ন্যাসীরা উপবাস, ভিক্ষান্নভোজন প্রভৃতি নিয়ম পালন করেন। সংক্রান্তির দিন তারা শূলফোঁড়া, বাণফোঁড়া ও বড়শিগাঁথা অবস্থায় চড়কগাছে ঝোলে। আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটে। শারীরিক কসরত দেখতে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ এসে জড়ো হয় চড়কমেলা-গাজনের মেলায়। মেলার সঙ্গে বিভিন্ন হিন্দু পৌরাণিক ও লৌকিক দেবতার নাম সম্পৃক্ত। যেমন- শিবের গাজন, ধর্মের গাজন, নীলের গাজন ইত্যাদি।

তবে এবার করোনা ভাইরাসের কারণে চৈত্রসংক্রান্তিতে কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে না। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সরকারি ভাবে মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। ফলে স্থগিত করা হয়েছে সকল অনুষ্ঠান।

রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের প্রভাতি আয়োজন শুরু ১৯৬৭ সাল থেকে। এরপর ১৯৭১ সাল ছাড়া প্রতি বছরই অনুষ্ঠিত হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে এবার বর্ষবরণ—মঙ্গল শোভাযাত্রা হচ্ছে না। 

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর