এল্ভিস প্রিসলি- কিং অব রক এন্ড রোল
এল্ভিস প্রিসলি – কিং অব রক এন্ড রোল
এল্ভিস প্রিসলি বিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় মার্কিন রক সঙ্গীত শিল্পী ও অভিনেতা । সবচেয়ে বেশি বিক্রিত এ্যালবামের সঙ্গীত শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম এল্ভিস প্রিসলি । পশ্চিমা রক সঙ্গীতে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে ‘’কিং অব রক এন্ড রোল ‘’ নামে অভিহিত করা হয় । তাঁর রক রীতিতে দেশীয় সঙ্গীত ও ছন্দের সমন্বয় বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল ।
এল্ভিস প্রিসলি

মিসিসিপির ট্যুপেলো শহরে ১৯৩৫ সনের ৮ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এল্ভিস এরন প্রিসলি । বাবা ভার্নন প্রেসিলি , মা গ্লাডাইস প্রিসলি । জেসে গারন প্রিসলি নামে তাঁর একজন জমজ ভাই ছিল , যিনি প্রিসলির জন্মের মাত্র ৩৮ মিনিট আগে জন্মগ্রহণ করেন । তেরো বছর বয়সে টুপেলো ছেড়ে পরিবারের সাথে মেম্ফিস শহরে যান প্রিসলি। সেখানে ১৯৫৪ সনে সান রেকর্ডস নামে একটি সঙ্গীত প্রতিষ্ঠানে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর সঙ্গীত জীবনের সূচনা হয় ।
আরসিএ প্রকাশনায় প্রিসলির প্রথম একক গান ‘ হার্টব্রেক হোটেল ‘ প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সনের জানুয়ারিতে । গানটি সেসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টপচার্টের শীর্ষে স্থান পায় । এরপর তিনি টেলিভিশনে গান করা শুরু করেন এবং তাঁর গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে । ‘ দ্যা ব্লু মুন বয়েজ ‘ প্রিসলির নিজস্ব ব্যান্ড দল । স্কটি মুরে এবং বিল ব্ল্যাকও ছিলেন এ ব্যান্ড দলে ।
এল্ভিস প্রিসলি

এল্ভিস প্রিসলি সঙ্গীতের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের মূলচরিত্রে অভিনয় করেন এবং কয়েকটি চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক এ্যালবামের সঙ্গীত রচনা করেন ।প্রিসলি অভিনিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘ লাভ মি টেন্ডার ‘ ১৯৫৬ সনের নভেম্বরে মুক্তি পায় । এটি তাঁর অভিনীত সেরা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম । এই চলচ্চিত্রের টাইটেল গান তিনিই করেছিলেন । প্রায় ৩৩ টি চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেন ।
এল্ভিস প্রিসলি

১৯৫৮ সনে অনেকটা বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন প্রিসলি । ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । প্রিসলির সেনাবাহিনীতে থাকাকালেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর মা , যা তাঁকে প্রবলভাবে ব্যথিত করে । এর কিছুদিন পরই এল্ভিস সেনাবাহিনী ছেড়ে ফিরে আসেন সঙ্গীত জগতে ‘ এল্ভিস ইজ ব্যাক ‘ এ্যালবামের মধ্য দিয়ে । এ্যালবামের গানগুলো তাঁর ভক্তদের দারুণভাবে উজ্জীবিত করে ।
১৯৬০ সনে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পর এল্ভিস চলচ্চিত্রে মনোনিবেশ করেন । রিটার্ন টু সেন্ডার , ভিভা লাস ভেগাস , ক্রাইং ইন দ্যা চ্যাপেল তাঁর হিট চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম । এসময় তিনি প্রথম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড পান। বেশ কবার তিনি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন । প্রায় সাত বছর পর ১৯৬৮ তে তিনি আবার স্টেজশো শুরু করেন । তাঁর এসময়কার ট্যুরগুলো বাণিজ্যিক সফলতার পাশাপাশি পায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা । ১৯৭০ সনের ২১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সাথে দেখা করেন প্রিসলি , যিনি তাঁর গানের একজন ভক্ত ছিলেন। ১৯৭৩ সনে তাঁর স্টেজে করা একটি গান প্রথম বারের মতো স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচার করা হয় , যা প্রায় দেড় বিলিয়ন দর্শক সরাসরি উপভোগ করেন ।
এল্ভিস প্রিসলি

সেনাবাহিনীতে থাকা কালীন ১৯৫৮ সনের সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ফোর্ট হুড এ প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে জার্মানির ফ্রাইবুর্গ শহরে যান এল্ভিস । জার্মানির বাড নয়হাইম শহরে ১৯৫৯ সনের ১৩ই সেপ্টেম্বর প্রিসলির আলাপ হয় চৌদ্দ বছর বয়সী সঙ্গীতশিল্পী প্রিসিলা বিউলির সাথে । প্রায় সাত বছর পর ১৯৬৭ সনের ১ মে লাস ভেগাসের অ্যালাদিন এ তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন । ১৯৬৮ সনের ১লা ফেব্রুয়ারী জন্ম নেয় তাদের একমাত্র কন্যা লিসা ম্যারি প্রিসলি । কিন্তু ১৯৭৩ সনের অক্টোবরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে ।
বিচ্ছেদের পর মানসিক অবসাদ ও মাদক সেবনে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে । ১৯৭৭ সনের ১৬ আগস্ট সকালে প্রিসলিকে তাঁর বাড়ির বাথরুমের ফ্লোরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় । হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪২ বছর বয়সে সঙ্গীতপ্রেমী ভক্তদের কাঁদিয়ে চির বিদায় নেন কিং অব রক এন্ড রোল এল্ভিস প্রিসলি । তাঁর মিসিসিপির বাড়িতে গড়ে তোলা হয়েছে প্রিসলির নামে পার্ক ও মিউজিয়াম । তাঁর প্রিয় শহর মেম্ফিসে প্রতি বছর তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী ও মেয়ে লিসা প্রিসলির উদ্যোগে আয়োজিত হয় ‘ প্রিসলি উইক’ ।
tor-e-tokka.com# h/@.
ছবিঃ সংগ্রহ

