কফি

কফি খাবেন তবে কতটা খাবেন !

কফি উষ্ণ মিষ্টি তরল পানীয় , যা পশ্চিম থেকে প্রাচ্য সবখানেই জনপ্রিয় । কফি বীজ গুঁড়ো করেই তৈরি হয় কফি । কফি শরীরের পক্ষে ভালো । এতে থাকা ক্যাফেইনের উপকারিতাও অনেক । তবে খালি পেটে কফি পান শরীরের পক্ষে মারাত্মক । আর তা যদি হয় ব্ল্যাক কফি , তাহলে ক্ষতির সম্ভাবনা আরো বেশী । সারা পৃথিবীতে উৎপাদিত কফি মোটামুটি দুটি শ্রেণীতে পড়ে , অ্যারাবিকা ও রোবুস্টা । রোবুস্টা তিতকুটে স্বাদের জন্য ততটা জনপ্রিয় নয় । বিশ্বে প্রচলিত কফির সত্তর ভাগই অ্যারাবিকা ।

কফির উপকারিতা

কফি শরীরে প্রাকৃতিক ওষুধের কাজ করে । এর এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্লান্তি দূর করে , তারুণ্য  ধরে রাখে, প্রাণচ্ছলতা বাড়ায় ।
পার্কিনসন  রোগাক্রান্ত ব্যাক্তিরা কফি পানে দারুণভাবে উপকৃত হতেপারেন। নিয়মিত কফি পান এরোগের সম্ভাবনা কমায় । 
গবেষণায় দেখা গেছে  কফিপান হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম । কফিতে ক্যাভন্যয়েড নামক শক্তিশালীএ্যান্টি- অক্সিডেন্ট আছে  যা হৃদরোগেরঝুঁকি কমতে পারে ।
কফিতে থাকা ক্যাফেইন এলডিএল কমাতে ও এইচডিএল বৃদ্ধিতে ভূমিকারাখে । এর ফলে স্ট্রোক , ভাস্কুলার ডিজিজ হতে পারে না।
কফি পরিপাক ক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে । হজমজনিত সমস্যায় উপকারী উপাদান কফি ।
নিয়মিত কফি পানে পাকস্থলী , প্রোস্টেট , ফুসফুস , জরায়ু ,যকৃৎ সহ বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করে ।
যে কোন ধরণের মাথা ব্যাথায় কফি বেশ কার্যকর । মাথা ব্যাথায় রক্তনালী প্রসারিত হয় , কফির ক্যাফেইন এর সংকোচনে সহায়তা করে ।
রোস্টেট কফি দাঁতের ক্ষয় রোধ করে । এছাড়া ত্বকের ক্যানসারের সম্ভাবনা কমায় ।
কফি ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী রক্তের ক্ষতিকর উপাদান প্রতিরোধ করতে সক্ষম । কফির নির্যাস রক্তে ইনসুলিন উৎপাদক কোষ ধ্বংসকারী ক্ষতিকর টক্সিন উপাদান দমন করে ডায়াবেটিস থেকে সুরক্ষা দেয় ।
প্রতিদিন কফি পানে লিভার সিরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা ২০ শতাংশকমে । অতিরিক্ত এলকোহল গ্রহণকারীদের লিভার সিরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।
কফির ক্যাফেইন স্মৃতিভ্রষ্টতা প্রতিরোধ করে । স্নায়বিক কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করে । মানসিক অবসাদ দূর করে । সামগ্রিক ভাবে গঠনমূলক মনোভাব তৈরিতে সহায়তা করে ।

কফির অপকারিতা

দিনে তিন কাপের বেশী কফি পানে ঘুমের ব্যঘাত ঘটে । তাই ঘুমের সমস্যা থাকলে কফিকে না বলুন ।
খালি পেটে কফি পান করা বিপদজনক । গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে ।
বেশী পরিমাণে কফি পান কিডনিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে ,এতে কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয় ।
অনিয়মিত হৃদস্পন্দন , উচ্চ রক্তচাপ, বুক ধড়ফড়ের জন্যও দায়ী অতিরিক্ত ক্যাফেইন । কোলেস্টেরল এর মাত্রাও বাড়ায় ।
কফিতে চিনির পরিমাণ বেশী থাকায় মেদ ও ওজন দুটোই বাড়ে ।
কফির ক্যাফেইন সন্তান ধারণ ক্ষমতা হ্রাস করে । গর্ভাবস্থায় কফি হতে বিরত থাকুন ।
ক্যাফেইন এ্যাড্রেনালিন নামক হরমোনের মাত্রা বাড়ায় , যা উত্তেজনা , ঘাবড়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় ।
অতিরিক্ত কফি দেহের ক্যালসিয়ামের ঘনত্ব হ্রাস করে ।
বেশী কফি রিউমাটিয়েড আরথ্রাইটিস সৃষ্টি করে ।

চমকপ্রদ তথ্য

প্রতি বছর অ্যামেরিকানরা ১১০ বিলিয়ন কাপ কফি খায় ।
ইতিহাসে এ পর্যন্ত ৫ বার কফি নিষিদ্ধ হয়েছিল ।
 ১৫১১ সনে মক্কায় , অভিযোগ – কফি পানে মাথায় ওলটপালট ভাবনা আসবে ।
 ষোড়শ শতকে রোমের ধর্মীয় নেতারা কফি নিষিদ্ধ করেন , তাদের বিশ্বাস ছিল এই পানীয় স্যাটানিক । 
কফি খাওয়ার অপরাধে ইতিহাসে  প্রথম শাস্তির বিধান দেন অটোমান- প্রহার থেকে শুরু করে সমুদ্রে নিক্ষেপ পর্যন্ত । 
১৭৪৬ সনে সুইডিশ সরকার কফি এবং কফির সরঞ্জাম নিষিদ্ধ করেন । 
১৭৭৭ সনে পরুশিয়ার রাজা ফেড্রিক দ্যা গ্রেট কফি নিষিদ্ধ করেন কারণ , তাদের নিজেদের পানীয় বিয়ার থেকে যেন কফি জনপ্রিয় না হয় ।
মধ্য ও দক্ষিণ অ্যামেরিকায় বিশ্বের চাহিদার দুই তৃতীয়াংশ কফি উৎপন্ন হয় , অথচ কফি উদ্ভব হয়েছিল পূর্ব আফ্রিকায় ।
সবচেয়ে দামী কফির প্রতি আউন্স বীজের দাম ৬০০ ডলার ।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০১৪ সালে সবচেয়ে বেশী ৩৭০০ গ্যালন কফি বানানো হয়েছিল ।আইস কফির রেকর্ড লস ভেগাসের – ১৫০০ গ্যালন , ২০১০ সালে । 

এইচ/আ/

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর