হযরত মুহাম্মদ মসজিদে নববী

কালেমা শাহাদাতের বাণী ঠোঁটে- কে এলো ঐ

আরবের কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ১২ ই রবিউল আউয়াল জন্মগ্রহণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব , বিশ্বমানবতার শান্তিদূত রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) । বনু হাসিম গোত্রে জন্ম নেওয়া এশিশু চারিত্রিক মাধুর্যের কারনে সকলের কাছেই আল-আমীন নামেই পরিচিত ছিল । তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ , মাতা আমেনা । দাদা আব্দুল মুত্তালিব , চাচা আবু তালিব । জন্মের পূর্বেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন । ছয় বছর বয়সে তাঁর মাতা মারা যান । আট বছর বয়সে তাঁর দাদা মারা গেলে শিশু মুহাম্মদের লালন- পালনের দায়িত্ব নেন চাচা আবু তলিব ।

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময়ে আরবের সমাজিক অবস্থা ছিল মানবতাবিরোধী ও বর্বরতাপূর্ণ । একে ইতিহাসবিদরা আইয়ামে জাহিলিয়া বা মূর্খতার যুগ হিসেবে অভিহিত করেছেন । যোগ্য নেতৃত্বের অভাব , সঠিক কৃষ্টি- সংস্কৃতির অনুপস্থিতি , কুসংস্কারের ব্যাপক প্রসারে আরবদের জীবন মানবেতর জীবনে পরিণত হয়েছিল । মূর্তি পূজা সমগ্র আরবে প্রচলিত ছিল । পবিত্র কাবা ঘরে বিভিন্ন আকৃতির ৩৬০ টিরও বেশী মূর্তি ছিল । অবস্থা প্রেক্ষিতে সূরা আনআম এ বলা হয়েছে ,
‘’ আপনি বলুনঃ এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শোনাই , যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য হারাম করেছেন । তা এই যে , আল্লাহ্‌র সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতামাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো। স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দিই, নির্লজ্জতার কাছেও যেও না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য , যাকে হত্যা করা আল্লাহ্‌ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না ; কিন্তু ন্যায়ভাবে । তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন , যেন তোমরা বুঝ।‘’ (সুরা আনআমঃ ১৫১)

তথ্যানুসারে ত্রিশ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পর মুহাম্মদ(সাঃ) প্রায়ই মক্কার অদূরে হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন । স্ত্রী খাদিজা তাঁকে নিয়মিত খাবার দিয়ে আসতেন । আবশেষে চল্লিশ বছর বয়সে রমযান মাসের কদরের রাতে প্রথম ওহী প্রাপ্ত হন । জিব্রাইল(আঃ) তাঁকে সূরা আলাক-এর প্রথম পাঁচটি আয়াত পাঠ করে শোনানঃ
“ পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন ।
যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক থেকে ।
পাঠ করুন , আপনার প্রতিপালক তো মহিমান্বিত ।
যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলমের সাহায্যে ।
শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে – যা সে জানত না । (সুরা আলাকঃ ১-৫)

নবুয়তের একাদশ সনে মহানবী (সাঃ) কে মসজিদে হারাম থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস এবং সেখান থেকে ঊর্ধ্বলোকে ভ্রমণ করিয়ে আনেন । এভাবে আল্লাহ্‌ মহানবী (সাঃ) কে মিরাজের সম্মান দান করেন । মিরাজে তিনি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের নির্দেশ প্রাপ্ত হন ।

৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী (সাঃ) মদিনা নগরীতে হিজরত করেন । এসময় সেখানে গোষ্ঠীগত হিংসা- বিদ্বেষ লেগেই ছিল । মদিনায় বসবাসরত সকল গোত্রের মধ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুহাম্মদ(সাঃ) ৪৭ ধারার একটি সনদ প্রণয়ন করেন , যা পৃথিবীর ইতিহাসে মদিনা সনদ নামে খ্যাত । এটিই পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সনদ ।মদিনা সনদ হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা , কূটনৈতিক দূরদর্শিতা , ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সুন্দর সমাজ গঠনের স্বাক্ষর বহন করে । এতে গোষ্ঠী সমূহের ধর্মীয় স্বাধীনতা ,আর্থ- সামাজিক অধিকার নিশ্চিত হয় ।

দশম হিজরিতে মহানবী(সাঃ) হজ্ব করার মনস্থ করেন । প্রায় লক্ষাধিক সাহাবীকে তিনি পবিত্র হজ্ব আদায় করেন । আরাফাত ময়দানে জাবালে রহমতে দাঁড়িয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে এক মর্মস্পর্শী ভাষণ দেন । ইসলামের ইতিহাসে এটিই বিদায় হজ্বের ভাষণ নামে খ্যাত । ভাষণ প্রদানের পর তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেন ,’’হে আল্লাহ্‌ ! তোমার বানীকে আমি যথাযথ ভাবে মানুষের নিকট পৌঁছাতে পেরেছি ?’’
এরপরই অবতীর্ণ হলো , ‘’ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম । তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম । ইসলামকে তোমাদের জন্য একমাত্র জীবন ব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম ।‘’(সূরা মাদেয়াঃ ৫;৩)

মুহাম্মদ(সাঃ) ছিলেন পৃথিবীর অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক , সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা । তিনি আধ্যাত্মিক ও জাগতিক উভয় জগতেই চূড়ান্ত সফলতা অর্জনকারী । সমগ্র আরব বিশ্বের জাগরণের পথিকৃৎ তিনি । বিবাদমান আরব সমাজকে একীভূতকরণ তাঁর অন্যতম সফলতা । সূরা আহযাবে বর্ণিত আছে , “ মুহাম্মদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নহে ; বরং সে আল্লাহ্‌র রাসুল ও শেষ নবী । আল্লাহ্‌ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ ।“ (সুরা আহযাবঃ ৩৩;৪০)

tor-e-tokka.com# h/@.

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর