গ্রিন টি

গ্রীন টি- সবাস্থ্য সুরক্ষায় উপকারী পানীয়

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপকারী একটি পানীয় গ্রীন টি । জাপানীদের কাছে গ্রীন টি প্রথমে ছিল ওষুধ পরে পানীয়তে পরিণত হয়েছে । ধারনা করা হয়, প্রায় চার হাজার বছর পূর্বে মাথা ব্যাথার ওষুধ হিসেবে চীনে গ্রীন টির প্রচলন শুরু হয় । ওজন কমানো , হজম শক্তি বাড়ানো , ত্বকের যত্ন ও তারুণ্য ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে গ্রীন টি । এই চা পানে ক্লান্তি দূর হয় ও দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম রাখে । গ্রীন টিতে বিদ্যমান থিয়ানিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী উপাদান । এতে আরো রয়েছে ভিটামিন এ, বি , বি৫ ,ডি , সি , ই , এইচ সেলেনিয়াম , জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম । উপকারিতা সত্ত্বেও এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে । গাড় বা কড়া গ্রীন টিতে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বেশি । পরিমিত গ্রীন টি পান শারীরিক ও মানসিক ভাবে ফিট রাখে ।

গ্রীন টি

>গ্রীন টি ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে । স্কিন ক্যানসার , ব্রেস্ট ক্যানসার , লান্স ক্যানসার , লিভার ক্যানসার , প্রোস্টেট ক্যানসার , গলব্লাডার ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক গ্রীন টি । দেহে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়তেও বাঁধা দেয় ।

>হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় গ্রীন টি । কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ হতে রক্ষা করে । খারাপ কোলেস্টোরেল কমিয়ে হার্টকে সুস্থ রাখে এবং স্টোক থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে । ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে ।

>গ্রীন টি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে । মস্তিষ্ক সঠিক ভাবে পরিচালনে সাহায্য করে গ্রীন টি । মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে । ধমনী শিথিল হয় ।

> গ্রীন টি দেহের ক্লান্তি নিবারণ করে এনার্জি ধরে রাখে । মাথা ব্যাথা , শরীরের ব্যাথা উপশম করে । এতে এজমার সমস্যা দূর হয় ।

>দেহের পানিশূন্যতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে গ্রীন টি ।

>কোলেস্টরেল কমায় , মেদ নিয়ন্ত্রণ করে । দেহের অতিরিক্ত মেদ কমাতে এটি একটি প্রমাণিত সমাধান ।

>গ্রীন টির পলিফেনন অ্যান্টি অক্সিডেন্ট দাঁত ও মাড়ির সমস্যা দূর করে । এ চা পাতায় রয়েছে ফ্লোরাইড , যা দাঁতের ক্ষয়রোধ করে । মাড়িকে মজবুত করে ।

> ত্বক সুস্থ ও সতেজ রাখে । ত্বককে টান টান রাখে ও কুঁচকে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এই পানীয় । গ্রীন টি পানে অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাবে ত্বককে স্থায়ী ক্ষতি হতে রক্ষা করে । সবুজ চা পানে ব্রণ দূর হয় ।

>গ্রীন টির ই জি সি জি (EGCG) এলার্জি নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে । গ্রীন টি ভাইরাস – ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে ।

>ঠাণ্ডা বা শীতকালীন ঠাণ্ডা জনিত সমস্যার জন্য দায়ী এডিনো ভাইরাস রোধে সহায়তা করে এই চা ।

>এই চা কৃমি প্রতিরোধক ।

সাবধানতা

সুস্বাস্থ্যের জন্য গ্রীন টি একটি কার্যকরী উপাদান । গ্রীন টি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হলেও অতি মাত্রায় এই চা পানে স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে । এতে ক্যাফেইন ও টেনিন্স নামক উপাদান রয়েছে যা গ্যাস্টিক , পেটে ব্যাথা সহ নানা সমস্যার জন্য দায়ী ।

খাওয়ার পরপরই গ্রীন টি পান হতে বিরত থাকুন । এতে হজমে সমস্যা হতে পারে । খাওয়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে এবং খাবার গ্রহণের ১-২ ঘণ্টা পর চা পান করা যেতে পারে ।

খালি পেটে গ্রীন টি পানে বিরত থাকুন । এতে পেটে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে ।

গ্রীন টির সাথে দুধ ও চিনি মেশাবেন না । দুধ ও চিনি যোগে এই চা পান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর ।

ঘুমের সমস্যা থাকলে রাতে গ্রীন টি এড়িয়ে চলুন । প্রয়োজনের বেশি গ্রীন টি পানে মানব দেহের দরকারি মিনারেল, লবণ ও পটাশিয়াম হ্রাস পায় ।

দিনে ২-৩ কাপের বেশি গ্রীন টি পান না করাই ভাল । অতি মাত্রায় এই চা পানে শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে ।

গ্রীন টি

এইচ/

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর