বব উইলিস

চলে গেলেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার বব উইলিস 

ইংল্যান্ড দলের সাবেক অধিনায়ক বব উইলিস আর নেই । থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে না ফেরারা দেশে চলে গেলেন এই কিংবদন্তি খেলোয়াড় । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর ।

এক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে তাঁর পরিবার । এতে বলা হয় , প্রিয় ববকে হারিয়ে আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে । সে ছিল অবিশ্বাস্য একজন জীবনসঙ্গী । আমরা তাঁকে ভীষণ মিস করবো ।

১৯৪৯ সালের ৩০ মে ডারহাম কাউন্টির সান্ডারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। রবার্ট জর্জ উইলিস ক্রিকেট অঙ্গনে সমধিক পরিচিত ছিলেন বব উইলিস নামেই। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম ফাস্ট বোলার উইলিস ১৯৭১ থেকে ১৯৮৪ সময়কালের মধ্যে টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে ইংল্যান্ড দলের বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছেন অনেকবার। টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিকে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কও  ছিলেন তিনি। উইজডেন  কর্তৃপক্ষ ১৯৭৮ সালে তাকে অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটার ঘোষণা করে।

বব প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বমোট উইকেট পেয়েছেন ৮৯৯টি। ব্যাটিংয়ে দুর্বল উইলিস প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দুইবার অর্ধ-শতক রানের কোটা অতিক্রম করতে সক্ষম হন। ২০.১৮ রান গড়ে লিস্ট এ ক্রিকেটে পেয়েছেন ৪২১ উইকেট।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৯০ টেস্টে অংশ নিয়ে উইকেট প্রতি ২৫.২০ রান দিয়ে ৩২৫ উইকেট লাভ করেছেন বব উইলিস। তার এ সংগ্রহটি ঐ সময়ে বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় বোলার ডেনিস লিলি’র পর দ্বিতীয় স্থানে ছিল। বর্তমানে ইয়ান বোথাম ও জেমস অ্যান্ডারসনের পর ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে তার বোলিং পরিসংখ্যানটি তৃতীয় স্থানে আছে।

১৯৮১ সালের অ্যাশেজ সিরিজে তিনি তার নিজস্ব সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ৪৩ রান দিয়ে তুলে নেন ৮ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তার এ বোলিং পরিসংখ্যান এখনো অন্যতম সর্বকালের সেরা পরিসংখ্যান। সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ড দল ফলোঅনের কবলে পড়ে। তারপর ইয়ান বোথামের অপরাজিত ১৪৯ রান ও পরবর্তীতে তিনি ৮ উইকেট তুলে নিলে ইংল্যান্ড দল নাটকীয়ভাবে ১৮ রানে জয় পায়। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ফলো-অনে থাকার পরও জয়ের ঘটনা এটি। ২০০১ সালের পূর্ব-পর্যন্ত এ ঘটনা আর ঘটেনি।

১৯৮২ সালের জুন থেকে মার্চ, ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলের টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়ক হয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ড সাত জয়, পাঁচ পরাজয় ও ছয় টেস্ট ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়াও, ১৬টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার দল জয় পেয়েছিল। তার ভূমিকার কথা স্মরণ করে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত অল-রাউন্ডার ইয়ান বোথাম বলেছেন, “তুখোড় চেষ্টাকারী, সেরা সহযোদ্ধা ও একজন উদ্দীপক হিসেবে তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয়।” আমার সময়কালে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে একমাত্র বিশ্ব সেরা ফাস্ট বোলার ছিলেন উইলিস। উইজডেনের সম্পাদকীয় কলামেও একই কথার পুণরাবৃত্তি ঘটে ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ১৯৮৪ সালের টেস্ট সিরিজের মধ্য দিয়ে তার সফলতম টেস্ট জীবনের অবসান ঘটে। এরপর তিনি স্কাই স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকাররূপে দায়িত্ব পালন করেন।

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর