চলে গেলেন হলিউড অভিনেতা কার্ক ডগলাস
চলে গেলেন হলিউড অভিনেতা কার্ক ডগলাস
হলিউড কিংবদন্তি অভিনেতা কার্ক ডগলাস আর নেই। তিনি ছিলেন একাধারে লেখক, পরিচালক, অভিনেতা ও প্রযোজক। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর। খবর বিবিসি’র।
কার্ক ডগলাসের মৃত্যুর কথা জানিয়ে এক বিবৃতিতে তার ছেলে মাইকেল ডগলাস বলেন, এটা খুবই দুঃখের যে আমি এবং আমার ভাই ঘোষণা করছি ১০৩ বছর বয়সে কার্ক ডগলাস আমাদের বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ।
১৯১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। অভিবাসিত পিতামাতা ও ছয় বোন নিয়ে নিঃসম্বল শৈশব কাটানোর পর ১৯৪৬ সালে বারবারা স্ট্যানউইকের বিপরীতে দ্য স্ট্রেঞ্জ লাভ অব মার্থা আইভার্স (১৯৪৬) দিয়ে তার চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে।
১৯৫০-এর দশকে তিনি সেরা বক্স-অফিস তারকা হয়ে ওঠেন এবং গম্ভীর নাট্যধর্মী, পশ্চিমা ধাঁচ ও যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রসিদ্ধি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি নব্বইয়ের অধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
১৯৪৯ সালের ‘চ্যাম্পিয়ন’ চলচ্চিত্রে বক্সারের চরিত্র দিয়ে নিজের প্রথম অস্কার মনোনয়ন অর্জন করেন তিনি। পরে আরো দুইবার অস্কারের জন্য মনোনীত হন তিনি। ১৯৯৬ সালে অস্কার পান এই প্রতিভাবান অভিনেতা।
ডগলাস চ্যাম্পিয়ন (১৯৪৯) চলচ্চিত্রে বক্সিং হিরো চরিত্রে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লাভ করেন ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। এ কাজের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।
তার অভিনীত অন্যান্য চলচ্চিত্রগুলো হলো- লরেন বাকল ও ডোরিস ডের বিপরীতে ইয়ং ম্যান উইথ আ হর্ন (১৯৫০); জ্যান স্টার্লিংয়ের বিপরীতে এইস ইন দ্য হোল (১৯৫১), এবং ডিটেকটিভ স্টোরি (১৯৫১)।
তিনি দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য বিউটিফুল (১৯৫২) ছবিতে নাট্যধর্মী অভিনয়ের জন্য দ্বিতীয় অস্কার এবং লাস্ট ফর লাইফ (১৯৫৬) ছবিতে ভিনসেন্ট ভ্যান গখ চরিত্রে অভিনয় করে তৃতীয় অস্কারের মনোনয়ন লাভ করেন।
অভিনেতা ও মানবহিতৈষী হিসেবে ডগলাস তিনটি একাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন, একটি একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার, এবং প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম অর্জন করেন। লেখক হিসেবে তিনি দশটি উপন্যাস ও স্মৃতিকথা রচনা করেন। আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট তাদের করা ধ্রুপদী হলিউড চলচ্চিত্র শিল্পের সেরা পুরুষ তারকা তালিকায় তাকে ১৭তম হিসেবে স্থান দিয়েছে।
ছবিঃ সংগ্রহ

