ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ – চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করণীয়
ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ – চিকিৎসা ও প্রতিরোধে করণীয়
ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত একটি সংক্রামক রোগ যা ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে । এডিস নামক মশার কামড়ে এ রোগ হয় । ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশা কোন ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় । আবার আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটিও ডেঙ্গু জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয় । এভাবেই এক ব্যক্তি হতে অন্য ব্যক্তির মধ্যে এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে । বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অনেক বেড়ে যায় ।
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা সাধারণ জ্বরের মতোই । এ জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগীই সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায় । তবে আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলতে হবে যাতে মারাত্মক কোন জটিলতা সৃষ্টি না হয় । যেহেতু এ রোগের কোন ভ্যাকসিন নেই তাই প্রতিরোধই এ থেকে রক্ষার অন্যতম উপায় ।
ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ
ডেঙ্গু জ্বর সাধারণত দুধরণের হয় , ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু এবং ফিভার ও হেমোরেজিক ফিভার
১> ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরে সাধারণত তীব্র জ্বর ও শরীরে প্রচণ্ড ব্যাথা থাকে ।
২> জ্বর ১০৪/১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে ।
৩> কোন কোন ক্ষেত্রে ২/৩ দিন পর আবার জ্বর আসতে পারে ।
৪> শরীরের বিভিন্ন অংশ বিশেষ করে মাথা , চোখ , হাড় , কোমর , পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশীতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় ।
৫>জ্বর হওয়ার ৪/৫ দিন পর সারা শরীরে লালচে দানা দেখা দেয় , এটা অনেকটা এলার্জি বা ঘামাচির মতো হয় ; বমি বমি ভাব হয় , ক্লান্তিবোধ হয় , রুচি কমে যায় ।
৬> হেমোরেজিক জ্বরে দেহের বিভিন্ন অংশ হতে রক্ত পড়ে ।
৭> পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত যাওয়া বা কালো পায়খানা হতে পারে ।
৮> মেয়েদের ক্ষেত্রে অসময়ে ঋতুস্রাব বা রক্তক্ষরণ ও বুকে বা পেটে পানি আসা ।
৯> লিভার আক্রান্ত হলে জন্ডিস হতে পারে ।
১০> কিডনি আক্রান্ত হলে রেনাল ফেইলিউর দেখা দিতে পারে ।
১১> ডেঙ্গু শক সিনড্রোম ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ একটি রূপ । ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে সার্কুলেটরি ফেলিউর যোগ হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয় ।
১২> মাড়ি ও দাঁত থেকে রক্তক্ষরণ ।
১৩> নাক , মুখ ও চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ ।
১৪> চোখের মধ্যে ও চোখের নিচে রক্তক্ষরণ ।
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা
১> জ্বরের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ সেবন ।
২> এন্টিবায়োটিক , এ্যাসপিরিন বা কোন ব্যাথানাশক ঔষধ সেবন করা যাবে না ।
৩ > পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে ।
৪ > জ্বর বেশী হলে বার বার পানি দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে ।
৫ > জ্বরে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে । তাই খাবারে প্রচুর তরল জাতীয় খাবার রাখতে হবে ।
৬> বমি ভাবের কারণে রোগী পানি পান করতে না পারলে সেক্ষেত্রে স্যালাইন দিতে হবে ।
৭> ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত হলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে ।
৮> জ্বরের ৪ থেকে ৫ দিন পর সিবিসি ও প্লাটিলেট টেস্ট করতে হবে ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা রোধ করা একান্ত প্রয়োজন । সাধারণত স্বচ্ছ পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে । তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং মশা নিধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।
# বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় , জঙ্গল ও পানি জমতে পারে এমন স্থানসমূহ পরিষ্কার রাখতে হবে ।
# ফ্রিজ , এয়ারকন্ডিশনার , এ্যাকুরিয়ামের নিচে ও টবে যেন ৫ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে ।
# মশা নিধনের জন্য স্প্রে , কয়েল , ম্যাট ইত্যাদি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে মশারি ব্যবহার করতে হবে ।
# ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে সব সময় মশারির মধ্যে রাখতে হবে ।
# অব্যবহৃত ফুলদানি , কৌটা , ডাবের খোলা , টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে ।
এইচ/
ছবিঃ সংগ্রহ

