নিউমোনিয়া – নিউমোনিয়ার লক্ষণ , প্রতিরোধ ও প্রতিকার
নিউমোনিয়া – নিউমোনিয়ার লক্ষণ , প্রতিরোধ ও প্রতিকার
নিউমোনিয়া ফুসফুসের প্রদাহ জনিত রোগ বা ইনফেকশন । সাধারণত ভাইরাস, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের মাধ্যমে নিউমোনিয়া হয় । ফুসফুসে স্ট্রেপটোকক্কাস জাতীয় ব্যাকটেরিয়া অথবা শ্বাসযন্ত্রের সিন্সিশিয়াল ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ফুসফুস ফুলে ওঠে , ফলে আক্সিজেন গ্রহণ করে নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয় । তখন ফুসফুসে প্রদাহের সৃষ্টি হয় । অত্যন্ত সংক্রামক রোগ নিয়মোনিয়া । রোগাক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে জীবাণু সহজেই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে । নিউমোনিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানিও হতে পারে । নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সুস্থ হতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে । আক্রান্ত রোগীর বুকে তেল বা কোন বাম ব্যবহার করা উচিত নয় এবং সাকশন যন্ত্র বা নেবুলাইজার ব্যবহার করাও ঠিক নয় । শিশু থেকে বয়স্ক সকলে এ রোগে সহজেই আক্রান্ত হতে পারে । সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিউমোনিয়া জনিত মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব ।
লক্ষণ
জ্বর
কাশি
খাবারে অরুচি
বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
কাপুনি বা খিঁচুনি
শ্বাসকষ্ট ,শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া
মুখ ও ঠোঁটের চারপাশ নীল হয়ে যাওয়া
মাথা ব্যাথা
পেট ব্যাথা
শ্বাস – প্রশ্বাসের সাথে বুকে ব্যাথা
ঘাম হওয়া
ক্লান্তি অনুভব
মাংসপেশীতে ব্যাথা হওয়া
শিশুর নাক ফুলে ওঠা , অজ্ঞান হওয়া
নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি
বয়স্ক ব্যাক্তি ও ছোট শিশুরা বেশি নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে থাকে ।
ফুসফুসের কোন রোগ , হৃদরোগ , কাশি , ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে বহুদিন ধরে ভুগছেন যারা ।
কোনভাবে ফুসফুসে আঘাত প্রাপ্ত হলে ।
ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের ।
ধূমপান করেন এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে তারা নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে থাকেন ।
প্রতিরোধ
শারীরিক পরীক্ষা – নিরীক্ষা , বুকের এক্স-রে , রক্ত ও কফ পরীক্ষা ।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধপত্র গ্রহণ ।
সর্বদা পরিষ্কার – পরিচ্ছন্ন থাকা ।
পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকা ।
প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ করা ।
সুষম খাদ্য গ্রহণ করা ।
ধূমপান থেকে বিরত থাকা ।
ধুলোবালি থেকে দূরে থাকা ।
হাঁচি – কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করা ।
সময়মত ভ্যাকসিন ও টিকা প্রদান । ভ্যাকসিন নিউমোনিয়া প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ।
শিশুর জন্মের পরপরই শিডিউল ভ্যাকসিনগুলো নিশ্চিত করা ।
লক্ষণ বা উপসর্গ দেখে নিউমোনিয়া হয়েছে সন্দেহ হলে , চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে । তবে আক্রান্ত হওয়ার পূর্বে প্রতিরোধই প্রতিকারের একমাত্র উপায় ।
এইচ/আ/
ছবিঃ সংগ্রহ

