পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের আজকের এই দিনে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুসারে তাঁকে ফরিদপুর জেলার আম্বিকাপুর গ্রামে তার দাদীর কবরের পাশে দাফন করা হয়।
তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মোহাম্মাদ জসীমউদ্দীন মোল্লা তার পূর্ণ নাম হলেও জসীমউদ্দীন নামেই তিনি পরিচিত। তার বাবার বাড়ি ছিল একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। বাবার নাম আনসার উদ্দীন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট।
জসীমউদ্দীন ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও পরবর্তীতে ফরিদপুর জেলা স্কুলে (বর্তমানে ফরিদপুর জেলা স্কুল) পড়ালেখা করেন। এখান থেকে তিনি তার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ১৯২১ সনে উত্তীর্ণ হন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা থেকে বি. এ. এবং এম. এ. শেষ করেন যথাক্রমে ১৯২৯ এবং ১৯৩১ সনে।
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় এ কবির লেখা উপন্যাস ‘বেদের মেয়ে’, কাব্য ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’, ‘নক্সী-কাঁথার মাঠ’ এবং ‘কবর’, আসমানীসহ বিভিন্ন কবিতা পাঠকমনে নাড়া দেয়।
তার লেখায় গ্রামবাংলার মানুষের হাসি-কান্না ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা উঠে এসেছে বলে তিনি বাংলা সাহিত্য জগতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সময়ে পল্লীকবি হিসেবে তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠ শেষ করে জসীমউদ্দীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ বছর শিক্ষকতা করেন। ১৯৪৪ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার এবং পরে পূর্ব পাকিস্তান সরকারের প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৬২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। জসীমউদ্দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার একজন দৃঢ় সমর্থক। তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য জসীমউদ্দীন প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার পান ১৯৫৮ সনে। ১৯৬৯ সনে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মান সূচক ডি লিট উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৭৬ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার ও ১৯৭৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। স্বাধীনতা পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন ১৯৭৮ সনে। তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।
কবর
– জসীমউদ্দীন
ওইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।
সোনালী ঊষায় সোনামুখে তার আমার নয়ন ভরি,
লাঙ্গল লইয়া ক্ষেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত,
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোর তামাশা করিত শত।
ছবিঃ সংগ্রহ

