হজ্জ নীতি কাবা

মন্ত্রীসভায় জাতীয় হজ্জ ও ওমরাহ্‌ নীতি অনুমোদিত

মন্ত্রীসভায় জাতীয় হজ্জ ও ওমরাহ্‌ নীতি অনুমোদিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে জাতীয় হজ্জ ও ওমরাহ্‌ নীতি – ২০১৯ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে । বৈঠক শেষে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিব মোঃ শফিউল আলম এক ব্রিফিং-এ বলেন , এ বছর ১ লক্ষ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ্জ যাত্রী বাংলাদেশ থেকে হজ্জ পালন করবেন । এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লক্ষ ২০ হাজার জন এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ১৯৮ জন হজ্জ পালন করবেন । হজ্জযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ অবশ্যই ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে । দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে সৌদি আরবে হজ্জযাত্রী পাঠানো হবে । প্রথম প্যাকেজে খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে বিমান টিকিট সহ ৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা ।

হজ্জ যাত্রীদের মধ্যে যারা ট্রেনে যাতায়াতের সুবিধা নিতে আগ্রহী তাদেরকে অতিরিক্ত ২৮,৯৮১ টাকা দিতে হবে । তবে অন্যদের ১৯,০২৫ টাকা সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হবে ।

প্রতিটি বেসরকারি হজ্জ এজেন্সি চলতি বছর কমপক্ষে ১৫০ জন এবং সর্বোচ্চ ৩০০ জন হজ্জ যাত্রী পাঠাতে পারবে । এবারের হজ্জের সম্ভাব্য তারিখ ১০ আগস্ট ২০১৯ , চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ।

মন্ত্রীপরিষদ সচিব আরো বলেন , এই প্যাকেজের আওতায় একটি ফ্লাইটে তিনটির বেশি এজেন্সির যাত্রী পাঠাতে পারবে না । ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) এর মাধ্যমে কুরবানীর খরচ পাঠাতে হবে । চলতি বছর সৌদি সরকার কুরবানির জন্য ৫২৫ রিয়াল নির্ধারণ করেছে । প্রত্যেক হজ্জ যাত্রীকে সৌদি হজ্জ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ৬৮ রিয়াল ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে । যে সব মুসলমান দু’বারের বেশি হজ্জ পালন করেছে বা ভিসা পাওয়ার পরও হজ্জে যেতে পারেন নি তাদেরকে অবশ্যই ২,১০০ রিয়াল সৌদি সরকারকে জরিমানা দিতে হবে । হজ্জ যাত্রীদের তাদের জন্মদিন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ দেখাতে হবে ।

নীতিমালায় বলা হয় , সকল ওমরাহ্‌ হজ্জ পালনকারীকে রেজিস্ট্রেশন করার আগে ওমরাহ্‌ এজেন্সিগুলো তাদের পৌঁছানো এবং ফেরার দিন সংক্রান্ত তথ্য সরকারকে জমা দিতে হবে । প্রতি ৪৪ জন হজ্জ যাত্রীর জন্য একজন করে মোয়াল্লেম থাকবে । নতুন নীতিমালায় , সকল হজ্জ এজেন্সি রমজানের আগেই হজ্জ যাত্রীদের বাসস্থান চুক্তির কপি প্রদান করতে বাধ্য থাকবে । নীতিমালায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে হজ্জ যাত্রীদের সেবা দানের জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের দায়িত্ব প্রদান করেছে ।

নতুন নীতিমালা অনুসারে , হজ্জ যাত্রীদের বিমান ও বাসা ভাড়া বাধ্যতামূলক ভাবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের নামে পে অর্ডারের মাধ্যমে দিতে হবে । রেজিস্ট্রেশনকৃত হজ্জ যাত্রীর নাম তাকে না জানিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না । হজ্জ যাত্রীকে হজ্জ পালনের জন্য শারীরিক , অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে সক্ষম হতে হবে । হজ্জ পালনে ইচ্ছুক সকলকে তাদের বাসা ভাড়া , সার্ভিস চার্জ ও ক্যাটারিং অনলাইনের খরচ প্রদান করতে হবে ।

নীতিমালা অনুসারে , হজ্জের শুরুতে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশ অথবা সৌদি আরব থেকে মোয়াল্লেম নিযুক্ত করবে এবং হজ্জ শুরুর দু ‘মাস আগেই এই নিয়োগ দিতে হবে । মোয়াল্লেমকে অবশ্যই আরবি ভাষায় পারদর্শী হতে হবে । তাদের পরিচয় পত্র ডেপুটি কমিশনার দ্বারা যাচাইকৃত হতে হবে ।

ছবিঃ সংগ্রহ

আরও খবর