মিঠাপানির জলাবন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট
মিঠাপানির জলাবন রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ( Ratargul Swamp Forest) বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন । সিলেট জেলার গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে ,গুয়াইন নদীর দক্ষিণে এই বনের আবস্থান । বনের দক্ষিণে আছে দুটি হাওর ; শিমুল বিল হাওর ও নেওয়া বিল হাওর । সিলেট শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার । সিলেটের স্থানীয় ভাষায় পাটি গাছ ‘রাতা গাছ’ নামে পরিচিত । আর রাতা গাছের নামানুসারেই এ বনের নামকরণ হয়েছে রাতারগুল ।

সিলেট বনভিভাগের উত্তর সিলেট রেঞ্জ- ২ এর আধীনে প্রায় তিন হাজার তিনশ একুশ একর জায়গা জুড়ে আছে এ জলাবন । এর মধ্যে ৫০৪ একর মূলবন ,বাকী জায়গা জলাশয় । উঁচু জায়গা আছে সামান্য কিছু। ১৯৭৩ সনে এ জলাবনকে বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ বন বিভাগ । পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি জলাবনের মধ্যে এটি অন্যতম ।
বর্ষাকালে পুরো এলাকাই ২০-৩০ ফুট পানিতে ডুবে থাকে। শীতে প্রায়ই শুকিয়ে যায় রাতারগুল। তখন বনের ভেতর খনন করা জলাশয়গুলোতেই কেবল পানি থাকে। ২০১০-২০১১ সনে পাখিদের আবাসস্থল হিসেবে ৩.৬ বর্গকিলোমিটারের বড় লেক খনন করা হয়েছে ।ক্রান্তীয় জলবায়ুর প্রভাবে এখানে প্রতি বছরই ভারী বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে । বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪১৬২ মিলিমিটার । মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গড় তাপমাত্রা থাকে ৩২ ডিগ্রী সেঃ, আবার জানুয়ারিতে এই তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রী সেঃ এ নেমে আসে।

এটি মূলতঃ প্রাকৃতিক বন হলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশ বন বিভাগ বেত, কদম, হিজল, মুরতা সহ কিছু জলসহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে । বরুণ,করচ, অর্জুন, পিঠালি, ছাতিম, গুটীজাম সহ সর্বমোট ৭৩ প্রজাতির উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে এই জলবনে ।

সর্বদা জলমগ্ন থাকায় সাপ, জোঁকের আবাস বেশী । শুকনো মৌসুমে বেজির দেখাও মেলে এখানে । শীতকালে রাতারগুলে আসে বালিহাঁস সহ প্রচুর পরিযায়ী পাখি, আসে বিশালাকার শকুনও । চিরসবুজ এ বনে আরও দেখা যায় সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিল ও বাজপাখি । মাছের মধ্যে আছে টেংরা, খলিশ, রিটা, পাবদা, মায়া, আইড়, কালবাউস, রুই সহ বিভিন্ন জাত । সৌন্দর্য পিপাসু পর্যটকদের ভিড় থাকে সারা বছরই , বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ।
tor-e-tokka.com# h/@.
ছবিঃ সংগ্রহ

