শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমাতে মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হচ্ছে- শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমাতে মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হচ্ছে- শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমাতে মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। বুধবার ১ জানুয়ারি সাভার অধরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে বই উৎসব অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন ।
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষার জন্য বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। আমরা আমাদের মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিবর্তন করছি, যাতে শিক্ষার্থীর পরীক্ষার চাপ কমানো যায় ও শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলা যায়।
তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, শুধু জিপিএ ফাইভের পেছনে যাব না। আমি পড়বো, আমি শিখবো, আমি চেষ্টা করবো। জিপিএ-ফাইভ ছাড়া আর কোন কাজ করবো না, কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নেব না এরকম করা যাবে না। পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দীপু মনি বলেন, মাদক সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও সহিংসতা থেকে নিজেদের দূরে রাখবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।যে যে কাজই করো না কেন, যাই থাকুক না কেন, মানুষের মত মানুষ হবে ।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল ইসলাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মাহবুব হোসেনসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা।
এদিকে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, জিপিএ-৫ এই বছর ( ২০১৯) থেকেই উঠিয়ে দেয়ার চিন্তা ছিল আমাদের। কিন্তু, এই বছর করতে গেলে অনেক বেশি তাড়াহুড়ো হয়ে যেত। তাড়াহুড়া করে পরিবর্তন করা সমীচীন হবে না। তাই করা হয়নি। তবে, আগামী বছর ( ২০২০) থেকে জিপিএ-৫ তুলে দেয়া হবে।
এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা যত কম জিপিএ-৫ নিয়ে কথা বলবো, তত আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো, শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ভালো। এই যে জিপিএ-৫ এর উন্মাদনায় আমরা আমাদের শিশুদের পুরো শিক্ষা জীবনটাকে একেবারে নিরানন্দময় তো করছি, তার সাথে বিষিয়ে দিচ্ছি। পরিবারের দিক থেকে বন্ধু বান্ধবের দিক থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার যে চাপ এটা বন্ধ করতে হবে। জিপিএ-৫ জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না।
দীপু মনি আরও বলেন, বাচ্চাদের ওপর পড়ালেখার চাপটা অনেক বেশি, আমরা সেটা কমিয়ে আনন্দময় করার প্রয়াস নিচ্ছি। বাচ্চারাদের চেষ্টা, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কষ্টে একটি ফল আসে। অনেক সময় নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করা হয় এতে বাচ্চারা কষ্ট পান।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শিখছে কি না, তাদের নিজেদের যে প্রতিভা আছে সেটি বিকশিত করার ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতা করতে পারছি কি না, এই বিষয়গুলোই আমাদের দেখা উচিৎ। জিপিএ-৫ জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষা ছাড়া সমাপনী পরীক্ষাগুলোতে পুরো গ্রেডিং সিস্টেমটা তুলে দিয়ে কীভাবে মূল্যায়ন করা যায় সে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে এখন কাজ করছে শিক্ষামন্ত্রণালয়।
ছবিঃ সংগ্রহ

