সেলুলয়েড পর্দায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা
সেলুলয়েড পর্দায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা
চলচ্চিত্র শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয় । চলচ্চিত্র জীবনের প্রতিচ্ছবি , সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ধারক ও বাহক । চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ের সংগ্রামের কাহিনীই তুলে ধরা হয়েছে । বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বে বা পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়ে আসছে । সুস্থধারার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে বড় অংশ জুড়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্রগুলো । আর চলচ্চিত্রের প্রচার ও প্রচারনায় পোস্টার একটি অন্যতম ও জনপ্রিয় মাধ্যম । চলচ্চিত্রের প্রচারণায় পোস্টারের ভূমিকা অনস্বীকার্য । স্বাধীনতাপূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রের প্রচারণায় পোস্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে । স্বাধীনতার উপর নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো আজো সবাইকে অনুপ্রাণিত করে ।
জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্রটি সামাজিক বাংলা চলচ্চচিত্র মুক্তি পায় ১৯৭০ সনের ১০ এপ্রিল। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন জহির রায়হান । এটি তাঁর নির্মিত শেষ কাহিনী চিত্র । ৫২’র ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত হয়েছে এটি । এই চলচ্চিত্রে আমার সোনার বাংলা গানটি চিত্রায়িত হয়েছিল যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে ।

জীবন থেকে নেয়া
স্টপ জেনোসাইড চলচ্চিত্রটি ২৭ জুলাই ১৯৭১ সনে মুক্তি পায় ।চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন জহির রায়হান ।মুক্তিযুদ্ধের উপর ইংরেজি ভাষায় নির্মিত প্রামান্য চলচ্চিত্র । চলচ্চিত্রটির দৈঘ্য ২০ মিনিট । মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে গুণগত ও শিল্পগত সাফল্যের দিক হতে এই চলচ্চিত্রটিকে শীর্ষ স্থান দেওয়া হয়ে থাকে ।

স্টপ জেনোসাইড
ওরা ১১ জন চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭২ সনের ১৩ আগস্ট। পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম। প্রযোজক মাসুদ পারভেজ । চলচ্চিত্রটি স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত । ১৯৭২ সনে শ্রেষ্ঠ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার প্রাপ্ত ছবি এটি ।

ওরা ১১ জন
অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী চলচ্চিত্রটি ১৯৭২ সনের ৮ নভেম্বর মুক্তি পায় । পরিচালক সুভাষ দত্ত । বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্র ।

অরুনোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
বাঘা বাঙালী চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সনে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন আনন্দ ।
রক্তাত্ত বাংলা চলচ্চিত্রটি ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সনে মুক্তি পায় । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন মমতাজ আলী ।
ধীরে বহে মেঘনা চলচ্চিত্রটি ১৯৭৩ সনে মুক্তি পায় । পরিচালক আলমগীর কবির , এটি তাঁর প্রথম ফিচার চলচ্চিত্র । বাংলাদেশর স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত চলচ্চিত্র । দৈঘ্য ১০৯ মিনিট । ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট চলচ্চিত্রটিকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ১০টি চলচ্চিত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ধীরে বহে মেঘনা
আমার জন্মভূমি চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৩ সনে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন আলমগীর কুমকুম ।
আবার তোরা মানুষ হ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৩ সনে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন খান আতাউর রহমান । এদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম ।

আবার তোরা মানুষ হ
সংগ্রাম চলচ্চিত্রটি ১৯৭৪ সনে মুক্তি পায় । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম ।
কার হাসি কে হাসে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৭৪ সনে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন আনন্দ ।
আলোর মিছিল চলচ্চিত্রটি ১৯৭৪ সনের ২৫ জানুয়ারি মুক্তি পায় ।বিখ্যাত পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতা চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন । বাংলাদেশের স্বাধীনতার উপর নির্মিত চলচ্চিত্র ।

আলোর মিছিল
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র মেঘের অনেক রং মুক্তি পায় ১২ নভেম্বর ১৯৭৬ সনে । এর দৈর্ঘ্য ৭৮ মিনিট । জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন হারুনুর রশিদ । রত্না কথাচিত্রের ব্যানারে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন আনোয়ার আশরাফ ও শাজীদা শামীম। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র এবং বাংলাদেশর দ্বিতীয় রঙিন চলচ্চিত্র এটি ।

মেঘের অনেক রং
আগামী চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৮৪ সনে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন মরশেদুল ইসলাম ।
সূচনা চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৮৮ সনে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন মোরশেদুল ইসলাম ।
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে চলচ্চিত্রটি ১৯৮৫ সনে মুক্তি পায় । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন আলমগীর কবীর ।
ধূসরযাত্রা চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯২ সনে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন আবু সায়ীদ ।
একাত্তরের যীশু চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৩ সনে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন নাসির উদ্দিন ইউসুফ । লেখক শাহরিয়ার কবিরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র । চলচ্চিত্রটির দৈঘ্য ১০০ মিনিট ।

একাত্তরের যীশু
আগুনের পরশমণি চলচ্চিত্রটি ১৯৯৪ সনে মুক্তি পায় । পরিচালনা করেন বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ । তাঁর নিজের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় চলচ্চিত্র এবং এটি তাঁর পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র । চলচ্চিত্রটির দৈর্ঘ্য ১২৩ মিনিট ।

আগুনের পরশমণি
নদীর নাম মধুমতি চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৫ সনে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন তানভীর মোকাম্মেল ।
মুক্তির গান চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১ ডিসেম্বর ১৯৯৫সনে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ । মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বাংলা প্রামাণ্য চিত্র এটি । চলচ্চিত্রটির দৈঘ্য ৮০ মিনিট ।

মুক্তির গান
এখনো অনেক রাত চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সনে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন খান আতাউর রহমান । মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র । এই চলচ্চিত্রের জন্য ২২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে পুরষ্কার লাভ করেন খান আতাউর রহমান ।

এখনো অনেক রাত
হাঙ্গর নদীর গ্রেনেড চলচ্চিত্রটি ১৯৯৭ সনে মুক্তি পায় । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম । প্রখ্যাত সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় চলচ্চিত্রটি ।
মুক্তির কথা চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায় ১৯৯৯ সনে । চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ । স্বাধীনতা বিষয়ক বাংলাদেশী নাট্য চলচ্চিত্র । চলচ্চিত্রটির কিছু ফুটেজ মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা লেয়ার লেভিনের কাছ থেকে নেওয়া । এর দৈঘ্য ৮০ মিনিট ।

মুক্তির কথা

tor-e-tokka.com# h/@.
ছবিঃ সংগ্রহ

